| |

সর্বশেষঃ

ভালুকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পশু কেনাবেচা

আপডেটঃ 1:10 pm | July 09, 2020

ভালুকা সংবাদদাতা : পশুর হাটে গাদাগাদি করছে পশু আর মানুষ। একজন আরেক জনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে করছেন পশুর দরদাম। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পশুর কেনাবেচা চলছে। হাটের অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই, কারও কারও থাকলেও তা নামানো থুতনিতে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর বাজারের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।

ভালুকা উপজেলার পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাটাজোরের পশুর হাট। ৩০০ থেকে ৩৫০ পশু কেনাবেচা হয় এই হাটে। বাজারটি ওয়াকফ স্ট্যাটের বাজার, তাই কোনো ইজারাদার নেই। ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোরের হিমেল তালুকদার আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় বাজারটি পরিচালনা করেন।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের সরেজমিনে দেখা যায়, বাটাজোর বাজারের হাটের সব ধরনের দোকান খুলা। মাছ, মাংশ ও সবজির দোকান গুলোতে গাদাগাদি করা মানুষ। গা ঘেঁষে হাঁস-মুরগির ও মাংস কিনছেন অনেকে। দেখে যেন মনে হয়, করোনার প্রাদুর্ভাবের কোনো চিন্তা নেই এই হাটে। অর্থাৎ আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মোতালেব বলেন, গত চার বছর ধরে দুইটি করে ষাঁড় কুরবানির ইদে বেচার জন্য লালন-পালন করেন তিনি। এবারও তাই করেছেন। করোনা ভাইরাসের জন্য এই বছর গরুর বাজার বেশি জমে উঠবে না। এই আশঙ্কা থেকে এক মাস আগেই তার গরু দুইটি বাজারে তুলেছেন। তার গরু দুইটির দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে চার লাখ টাকা। এক ব্যক্তি আড়াই লাখ টাকা বলেছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে মঙ্গলবার বিকাল ৩ টার দিকে একই বাজারের জামাল নামের এক চায়ের দোকানে ২৩ জন লোকের মধ্যে চার জনকে চা পান করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে ১৮ জনের মুখে মাস্ক নেই। বাজারের কলা বিক্রি করতে আসা মান্নান শেখ বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলিছে। অহন (এখন) আর করোনারে ডরাই না। আমাগো দেশ থেইক্ষা চলি গেছে করোনা।

হাটের স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে বাজার পরিচালনাকারী হিমেল তালুকদার, করোনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এই হাটে এখন তেমন জনসমাগম হয় না। আর করোনা ভাইরাসের কারণে এবার পশুর হাটটি চারটি স্থানে ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য হাটে মাইকিং করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভালুকা উপজেলার পশুর হাটের স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল বলেন, কুরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্য বিধির ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন পর্যন্ত উপজেলার সবগুলো পশুর হাট তিনি মনিটরিং করবেন। বাজার কমিটিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করার কথা বিক্রেতাদের। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

HostGator Web Hosting