| |

সর্বশেষঃ

কোরবানি সামনে রেখে বাড়ছে মসলার দাম

আপডেটঃ 12:45 pm | July 11, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোরবানির ঈদ আর বাকি আছে মাত্র ২০ বা ২১ দিন। নিত্য পণ্যের বাজারে গেলেও এর ছাপ পাওয়া যাচ্ছে। মাংস রান্নায় দরকারি মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আর বৃষ্টির অজুহাতে বেড়েছে সবজির দাম।

ক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহখানেক আগেও মসলার দাম কমতির দিকে ছিল। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। রাজধানীর শাজাহানপুরের বাসিন্দা লিটন ব্যাপারী বলেন, ‘কোরবানি আসছে, এ কারণে ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, নতুন করে বেড়েছে লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনির দাম। রাজধানীর কাওরান বাজারে মসলা ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম বলেন, ‘গত বুধবার থেকে মসলার দাম চড়া।’ তিনি বলেন, ‘তিন ধরনের মসলা— লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনির দাম বাড়তি।’ তিনি উল্লেখ করেন, এলাচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। লবঙ্গের দাম কেজিতে ২০০ টাকা এবং দারুচিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারাবছরই মসলার চাহিদা থাকে। তবে কোরবানি আসলে এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৬০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে। লবঙ্গ’র কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

এলাচ ও লবঙ্গের দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও। টিসিবি’র হিসাবে গত এক সপ্তাহে এলাচের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। লবঙ্গের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত একবছরে দারুচিনির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

এদিকে মহামারি করোনার প্রকোপে এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে। বেকার হয়েছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে মসলার পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা সবজির দাম বাড়ার পেছনে বন্যা ও বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন।

মানিক নগর এলাকার সবজি ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঢাকায় সবজি কম আসছে। যে কারণে সব ধরনের সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।’

শুক্রবার পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা। গাজর বিক্রি হয়েছে ৮০-১১০ টাকা। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকা। বরবটির কেজি ৬০-৭০ টাকা। চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, পটল ৩০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৬০ টাকা, কচুর মুখী ৬০-৭০ টাকা, কাকরোল ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ডিমের ডজন ১০০-১০৫ টাকা। অবশ্য ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা করে, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) লাল লেয়ার মুরগি ২২০-২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি সোনালী মুরগি ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি, আর খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকা কেজি।

বাজারে চালের দাম বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারে সরু চাল মিনিকেট ও নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬২ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও এই দামই ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম, আটাশ ও লতা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আর মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

বাজারে বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। এই দাম তিন মাস ধরে চলছে। অথচ গত বছর এই সময়ে এ ডালের দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। মাঝারি ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আর ছোট দানার ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে লিটারে এক টাকা কমেছে ভোজ্য তেল সয়াবিনের দাম। এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৮৩ থেকে ৮৬ টাকা লিটার। বোতলজাত ১০০ থেকে ১০৫ টাকা লিটার। ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় স্থির রয়েছে সব ধরনের পাম তেলের দাম। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতিকেজি ৫৭ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিনি। স্থির রয়েছে আটা ও ময়দার দাম।

চলতি সপ্তাহে কেজিতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে দেশি ও আমদানি করা সব ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানি করা আদা ১০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়, রসুন ১০ টাকা কমে দেশি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

HostGator Web Hosting