| |

সর্বশেষঃ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদযাত্রা, ট্রেনে নেই অতিরিক্ত যাত্রী

আপডেটঃ 5:38 pm | July 30, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ আসলেই শেকড়ের টানে নগর ছেড়ে গ্রামে যায় কোটি মানুষ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনায় এবার কোটি মানুষ গ্রামে না ফিরলেও ফেরার সংখ্যাটা নেহাত কমও নয়।
করোনাকালীন ঈদেও মানুষকে নগর ছেড়ে গ্রামে যেতে দেখা গেছে। তবে এবারের ঈদ যাত্রাও ভিন্ন রকমের।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অন্য বছরের মতো প্ল্যাটফর্মে নেই অতিরিক্ত যাত্রী। স্টেশনে প্রবেশে নেই দীর্ঘ সারি। নেই নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতাও। আগের মতো ব্যস্ততা নেই রেল কর্মী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। সবই যেন বদলে দিয়েছে করোনা! মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে যাত্রা করছে।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রী সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ঈদে যাত্রীদেরও চাপ নেই। বাড়তি ট্রেন না থাকায় ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল করায় বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাও কম।

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রীরা ট্রেন যাত্রা করছেন। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা অর্থাৎ নিজেদের সুরক্ষায় সবই করছেন যাত্রীরা।

.

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অল্প অল্প যাত্রী প্রবেশ করছেন স্টেশনে। সবাই নিয়ম মেনেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন। অন্য বছরের মতো নেই কারো তাড়াহুড়ো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল যাত্রী আসছেন নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ১ জুন থেকে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী নিয়ে চলছে আন্ত:নগর ট্রেন। এখন পর্যন্ত সেভাবেই চলছে ট্রেন। এমনকি ঈদেও নেই বাড়তি ট্রেন।

ফলে ঈদ যাত্রায়ও নেই অতিরিক্ত যাত্রী। নির্ধারিত যাত্রীর বাইরে কেউই প্ল্যাটফর্মেও প্রবেশ করতে পারছেন না। ট্রেনেও নেই দাঁড়িয়ে যাত্রী যাওয়ার দৃশ্য। অথচ অন্য ঈদে ট্রেনের ছাদেও পা ফেলার জায়গা থাকতো না।

কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ১২টি আন্ত:নগর ট্রেনের মধ্যে ৫টি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে কমলাপুর ছেড়ে গেছে। এবার যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ না থাকায় শিডিউল টাইম অনুযায়ী ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী নিয়াজ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে পরিবারের সবাইকে ঢাকায় রেখে গ্রামে যাচ্ছি। মা-বাবাকে দেখতেই মূলত বাড়ি যাচ্ছি। ঈদের পরদিনই আবার ঢাকা ফিরবো।

এমনি আরেক যাত্রী জসিম উদ্দিন। গন্তব্য ঠাকুরগাঁও। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস থাকায় পরিবার নিয়ে ঈদ যাত্রা করে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে চান না। তাই সবাইকে ঢাকায় রেখে তিনি রিস্ক নিয়ে বাবা-মাকে দেখতে বাড়ি যাচ্ছেন। .

পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আসাদ। তার গন্তব্য খুলনা। তিনি বলেন, রাতে ট্রেন, কিন্তু ঈদ যাত্রা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যাত্রা, তাই ঝামেলা এড়াতে একটু আগেই রেলস্টেশনে চলে এলাম।

আরেক যাত্রী নিশাদ বলেন, এবার ভিন্ন এক কমলাপুর দেখলাম। ঈদ যাত্রায়ও কমলাপুর খালি। অন্য বছরের মতো কমলাপুর রেলস্টেশনে নেই বাড়ি ফেরা মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ও নেই। যাত্রী অন্যবারের মতো না থাকায় কমলাপুর যেন এক তার চিরচেনা রূপ ফিরে পাচ্ছে না।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বলেন, পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলছে। এখন অতিরিক্ত যাত্রী যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এবার বাড়তি ট্রেন নেই এবং যেসব ট্রেন চলছে, সেগুলো ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ফলে বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই।

HostGator Web Hosting