| |

সর্বশেষঃ

কিশোরগঞ্জে মেয়ে অপহরণ মামলার আসামিকে এখন মেয়ের স্বামী দাবি

আপডেটঃ 2:59 pm | August 13, 2020

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কারাগারে থাকা মেয়ে অপহরণ মামলার আসামি সাগর এখন মেয়ে (নওশিন)এর স্বামী। অপহৃত নওশিন তার নিজ বাড়ি ছেড়ে ছেলের (সাগর) বাড়িতে অবস্থান করে ছেলেকে স্বামী দাবি করছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলা আগানগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে । সাগর আগানগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাবুর্চি বাড়ির সুরুজ মিয়ার ছেলে ও নওশিন একই ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মেরাজি বাড়ির আবু সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে।

গত ২১শে জুলাই মঙ্গলবার অপহরণ মামলার আসামি সাগরকে (২২) গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সে নওশিন (১৬) নামে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে অপহরণ করেছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার এস আই জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাগরের স্বজনদের সাথে কিশোরীর বাবার বাড়ির সীমানা নিয়ে দ্বন্ধের কারণে নওশিন কে গত ২৭ জুলাই প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করে সাগর। পরে ঘটনার ৫ দিন পর ২ আগস্ট মেয়ের বাবা ছিদ্দিক মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সাগর কে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। অপহরণের পরে তারা মেয়েটিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট এলাকায় নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে সাগরের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে অপহৃত নওশিনকে গত ২১শে জুলাই মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মামলার প্রধান আসামি সাগরকে আটক করতে সক্ষম হই।পরে সাগর কে উক্ত মামলায় কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে অপহৃত মেয়ে নওশিন ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বাবার পরিবার ছেড়ে চলে আসে সাগরের বাড়িতে। এখানে এসে নওশিন সাগর কে স্বামী হিসেবে দাবি করে। জনগণ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নওশিন হুমকির স্বরে বলে উঠেন, এখান থেকে আমাকে কেউ ফেরত নিতে চাইলে বা কেউ আমাকে বের করে দিলে আমি আত্মহত্যা করব। সাগর আমার স্বামী। আমার স্বামীকে আমার মা-বাবা জেলে পাঠিয়েছে। এখন তারাই আমার সাগর কে এনে দিতে হবে। নতুবা আমি আত্মহত্যা করব।

উল্লেখ্য যে সাগরকে গ্রেপ্তারের পূর্বে তার ভাই আফজাল (২৩) ও চাচা সুরুজ আলী (৫৫) কে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে জামিনে রয়েছে এবং তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে। তারা আরো জানায় সাগরের সাথে নওশিন দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করে আসছে। কিন্তু মেয়ের পরিবার পক্ষ মেনে নিচ্ছে না বলে তারা পালিয়ে যায়।

এলাকা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উক্ত ঘটনায় সাগরের বাবা হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আপনজন তো দূরের কথা পুলিশের হুমকি দমকি আর ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে কেউ কাছে গিয়ে সেবা করার সুযোগ হয়নি। গত ইদ-উল আযহার ৩দিন পর সাগরের বাবা অযত্ন আর সেবার অভাবে বিছানায় প্রশ্রাব পায়খানার মাঝেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের অসৎ আচরণের কারণেই সাগরের বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যদের।

অপর দিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দানিস মিয়া ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য জোসনা বেগম জানান, নওশিন সাগরের বাড়িতে চলে আসার পর তার পরিবারের লোকজন তাকে নিতে আসলে সে জনসম্মুখে তাদের সাথে যাবে না বলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এতে পরিবারের লোকজন বিমুখ হয়ে বাড়িতে ফিরে যায়।

এ ব্যাপারে নওশিনের বাবা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঘটনা সত্যি মেয়ে আমার বাড়ি থেকে সাগরের বাড়িতে চলে গেছে। আমি লোক পাঠিয়েছিলাম কিন্তু সে আসেনি । মেয়ে আমার মান সম্মান বুজলনা । এখন কি আর করব,আমি মামলা দিয়েছি আইনে যা হবার হবে ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব শাহিন জানান, নওশিন পালিয়ে সাগরের বাড়িতে চলে যাওয়া খবর আমি জানিনা । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাথে কথা বলে আমি জানাব। আর তার বাবা এ বিষয়ে অবগত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

HostGator Web Hosting