| |

সর্বশেষঃ

কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রিডের আগুন : ভোগান্তির শিকার হাসপাতালের রোগীসহ পুরো ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মানুষ

আপডেটঃ 8:59 pm | September 10, 2020

স্টাফ রিেেপার্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : এবার পাওয়ার গ্রিডের সার্কিট ব্রেকারে অগ্নিকান্ডের ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও দিনভর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ এই চার জেলার মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রিডের ৩৩ কেভি সাব স্টেশন থেকে পল্লী বিদ্যুত সমিতি ময়মনসিংহ-১ মুক্তাগাছা ফিডারে বিদ্যুত সরবরাহ করার সময় বিকট শব্দে সার্কিট ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। এসময় ৩৩ কেভি সার্কিট ব্রেকারসহ কন্ট্রোলরুমের প্যানেল বোর্ড ও এর ক্যাবল পুড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় পুরো ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা। শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় দুপুরের মধ্যে সরবরাহ চালু করা হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত পুরো ময়মনসিংহে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এর আগে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট কেওয়াটখালির গ্রিডে যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে পিজিসিবির কর্মীরা। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে শর্ট সার্কিট থেকে কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রিডে আগুনে পাওয়ার ট্রান্সফরমার ও ব্রেকারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেলে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় বিদুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পুরো সরবরাহ চালু হয় প্রায় ১৮ ঘন্টা পর। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গ্রিডের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রিডের ৩৩ কেভি সাব স্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মুক্তাগাছা পল্লী বিদ্যুত সমিতিকে বিদ্যুত সরবরাহ দেয়ার জন্য সুইচ অন করার সাথে সাথেই শর্ট সার্কিট থেকে ৩৩ কেভির সার্কিট ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। পরে এই আগুন মূহুর্তেই ক্যাবল হয়ে কন্ট্রোল রুমের প্যানেল বোর্ডে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সময়ে পিজিসিবির কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এরই মধ্যে কন্ট্রোলরুমের সবকটি প্যানেল বোর্ড, ডিসি ও রিলে সিস্টেম পুড়ে অকার্যকর হয়ে যায়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি-পিজিসিবি এর কেওয়াটখালিস্থ গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তাগাছা পল্লী বিদ্যুত সমিতিকে সরবরাহ দেয়ার সময় শর্ট সার্কিট থেকে সার্কিট ব্রেকারে আগুন ধরে যায়। এসময় প্যানেল বোর্ড, ডিসি ও রিলে সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুতের সরবরাহ। তবে দুপুর ১ টার পর নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুরে সরবরাহ চালু করা গেলেও সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত পুরো ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারেনি পিজিসিবি। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি ময়মনসিংহ কেন্ত্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জনকন্ঠকে জানান, দুপুরের দিকে বৃষ্টিতে কাজের কিছুটা বিঘœ ঘটলেও পিিিজসিবি ও পিডিবি কর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টায় দুপুরের মধ্যে শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনায় সরবরাহ দেয়া হয়েছে। দুপুরের পর ভালুকা গ্রিড থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এবং শেরপুর গ্রিড থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং ফুলপুর উপজেলায় বিদ্যুত সরবরাহ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের চরপাড়া ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সন্ধ্যার কিছু আগে বিদ্যুত সরবরাহ দেয়া হলেও নগরীর অন্যসব এলাকা রয়েছে অন্ধকারে। রাতের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পিজিসিবির সাথে পিডিবির কর্মীরা। কেওয়াটখালি কন্ট্রোলরুমের প্যানেল বোর্ড পুড়ে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে প্যানেল বোর্ড আনা হচ্ছে। এটি স্থাপনের পর পুরো সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানায় পিডিবি। দিনভর বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এসময় অপারেশন, সিটি স্ক্যান. এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ ব্যাহত হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার দুপুরে কেওয়াটখালি পাওয়ার গ্রিডে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের পর ফের বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গ্রিডের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। গ্রিডের আশপাশের এলাকাবাসী জানায়, পর পর এসব অগ্নিকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। তবে এই অগ্নিকান্ড নাশকতা নাকি ¯্রফে দুর্ঘটনা ধারনা করতে না পারলেও এলাকাবাসী মনে করেন গ্রিডের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারের আগেও বজ্রপাতে একাধিকবার গ্রিড ক্ষতিগ্রস্থ কারন জানতে চাইলে পিডিবি ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, শতভাগ প্রটেকশন থাকার পরও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুখস্তের মত একই জবাব দেন গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক। তিনি আরও জানান, শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকান্ডসহ বজ্রপাত প্রতিরোধে পুরো সিস্টেমকে সুরক্ষায় শতভাগ ব্যবস্থাই রয়েছে গ্রিডে। তারপরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান পিজিসিবির এই প্রকৌশলী।

HostGator Web Hosting