| |

সর্বশেষঃ

অনিয়মতান্ত্রিক ইটভাটায় দূষণ হচ্ছে পরিবেশ

আপডেটঃ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৬, ২০১৬

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ছাড়পত্রহীন এসব ইটভাটা মানছে না আবাসিক এলাকা, না মানছে কৃষি জমি। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ইটভাটাগুলোতে বেআইনিভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ হচ্ছে দুষিত।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৭৯টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি চলছে ছাড়পত্রহীনভাবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইনে এলজিইডি বা পৌরসভা সড়কের আধা কিলোমিটারের মধ্যে ও ফসলি জমি বা আবাসিক এলাকায় ইটভাটা না করা বিধান থাকলেও টাঙ্গাইলের অধিকাংশ ভাটা মালিক তা অমান্য করে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। এর পাশাপাশি ভাটাগুলোতে কয়লা পোড়ানোর সরকারি বিধানটি অমান্য করে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ।

ছাড়পত্রহীন ইটভাটার মালিকদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা নির্ধারণ মোতাবেক তাদের ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এর সময়সীমা রয়েছে।

ভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে ভাটা মালিকরা জানান, কয়লার চেয়ে কাঠ সাশ্রয়ী এবং এতে মানসম্মত ইট প্রস্তুত করা সম্ভব হয় বলেই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তারা আরও বলেন, কয়লার পাশাপাশি কাঠ পোড়াচ্ছেন তারা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’র পরিবেশবিদ সোমনাথ লাহেড়ী জানান, কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে আবাদি জমি নষ্ট করে ভাটা তৈরি করায় ফসলসহ ভাটার আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করার কথাও বলেন তিনি।

ছাড়পত্রহীন ইটভাটা পরিচালনা প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম খান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমার ফলে ৬৯টি ছাড়পত্রহীন ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়সীমার মধ্যেই ছাড়পত্রহীন ভাটা মালিকদের পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভাটাগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ভাটায় কাঠ পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting