| |

সর্বশেষঃ

দেশে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা

আপডেটঃ 9:16 pm | October 23, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ২৩০তম দিনে ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ হার কমেছে, পাশাপাশি সুস্থতা বেড়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ১০ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৭৬১ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ৭ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বিদ্যমান ছিল।
আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ হাজার ১১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৮৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১১০ জন কম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ১৪ হাজার ৯৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৯৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ কম।
দেশে এ পর্যন্ত মোট ২২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত এই হার ছিল ১৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৩ জন। দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ১২ হাজার ৬৫ জন।
আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ১১৯ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৯৫৮ জনের। গতকালের চেয়ে ৮৩৯টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ১১১টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৭ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৬১১ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৭৫৪টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ২৩২৭ দশমিক ৬৫ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৮৩২ দশমিক ৩৭ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৮৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায মৃত্যুবরণকারী ১৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন, আর নারী ১ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৪৩৫ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৩২৬ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ; নারী ২৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের বছরের ১ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১২ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৯ জন; যা শূন্য দশমিক ৫০ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৫ জন; যা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১২৯ জন; যা ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩১৯ জন; যা ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৭১৬ জন; যা ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৫৩৫ জন; যা ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ৯৮৮ জন; যা ৫১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ৯৬৩ জন; যা ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৫০ জন; যা ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩৬৯ জন; যা ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪৬২ জন; যা ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৯৭ জন; যা ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২৪১ জন; যা ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২৬০ জন; যা ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৯ জন; যা ২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৯টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭২২ জন ও শয্যা খালি আছে ১ হাজার ৭৯৭টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩১৪টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৭৩ জন ও শয্যা খালি আছে ১৪১টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৮২৫টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৩৪ জন ও শয্যা খালি আছে ৬৯১টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৪ জন ও শয্যা খালি আছে ২৫টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮৬টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ৫১৭ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ৮৬৯টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭৯ জন ও শয্যা খালি আছে ১৩২টি। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১১ হাজার ৭৩০টি, রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৩৭৩ জন এবং শয্যা খালি আছে ৯ হাজার ৩৯৭টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৬৪টি, রোগী ভর্তি আছে ২৬৬ জন এবং খালি আছে ২৯৮টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫৬২টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৩৫৮টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ১ হাজার ৫৩৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ৮৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ২৫ জন, খুলনা বিভাগে ১০৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৫ জন, সিলেট বিভাগে ৭২ জন এবং ময়মনসিংহে ১১ জন সুস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ১৮৭ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ২২৬ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৯৯৭ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৮৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ১১১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৭৬৬ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৬৯ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৬ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৯ হাজার ৯৬৮ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৬৩৬টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ফোন এসেছে ৪৫ হাজার ৭২৯ এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ১৭৮টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৫৪৩ টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ২০ লাখ ৫ হাজার ৬১৫টি।
এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৩ হাজার ৯৯৩ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯১ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ১৪৫ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬৩ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৮ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ১১ লাখ ৪ হাজার ৯৪৬ জন এবং এ পর্যন্ত ১১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

HostGator Web Hosting