| |

সর্বশেষঃ

সরকারের কাছে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকের কোনো তালিকা নেই

আপডেটঃ 2:55 pm | November 19, 2020

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশজুড়ে শত শত লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক অবৈধভাবে দেদাছে চিকিৎসা বাণিজ্য চালালেও সরকারের কাছে তার কোনো তালিকা নেই। ওসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা করে না। আর ওসব প্রতিষ্ঠান বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর বারবার ঘোষণা দিয়েও দেশব্যাপী কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখতে পারেনি। বরং স্বাস্থ্য অধিদফতরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নিয়ে ওসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে লালন-পালন করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভুল ও মানহীন চিকিৎসায় অহরহ রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই হাসপাতাল-ক্লিনিকে ঘিরে মারামারির ঘটনাও ঘটছে। রোগীরা বার বার অভিযোগ তুলেও তার কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। সর্বশেষ অতিসম্প্রতি রাজধানী লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে চালানো একটি হাসপাতালে মারধরের কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের প্রেক্ষিতে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। তাতে দেখা যায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। ওসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে স্বাস্থ্য অধিদফতর লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনে এক মাস সময়সীমা বেঁধে দেয়। বিগত ২৩ আগস্ট ওই সময় শেষ হয়। আর বেঁধে নেয়া সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন বা নিবন্ধন নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে- মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার পর অনলাইনে আবেদন বাড়লেও বর্তমানে চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখনো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি। ওসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কতো দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে এ বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছে না।
সূত্র জানায়, সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সারাদেশে ১২ হাজার ৫৪৩টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করেছে। তবে কতোগুলো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই তার কোন তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে নেই। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২০১৮ সালের তথ্যানুযায়ী দেশে মোট ১৭ হাজার ২৪৪টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫ হাজার ৪৩৬টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ৩৭৫, রাজশাহী বিভাগে ২ হাজার ৩৮০, খুলনায় ২ হাজার ১৫০, রংপুরে ১ হাজার ২৩৬, বরিশালে ৯৫৭টি, ময়মনসিংহে ৮৭০টি এবং সিলেট বিভাগে ৮৩৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতর বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকদের ভোগান্তি কমাতে দুই বছর আগে অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষওই পদ্ধতির নানা জটিলতার কথা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুই বছর আগে অনলাইনে আবেদন করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি। একইসঙ্গে লাইসেন্স পেতে পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স পেতেও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্টদের মতে, লাইসেন্স নবায়ন না করার বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে- হাসপাতাল লাইসেন্সের সময় কাগজপত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ঠিকই দেখায়। কিন্তু পরের বছর নবায়নের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো ওই সংখ্যক জনবল দেখাতে পারে না। নবায়নের আবেদন করার পর পরিদর্শনে গেলে আবেদনে দেয়া তথ্যের সঙ্গে কোন মিল পাওয়া যায় না। ওসব সংশোধন করে ফের আবেদন করতে বলা হলে তাদের থেকে আর কোন সাড়া পাওয়া যায় না।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইশরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চকে সম্প্রতি অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মোঃ ফরিদ হোসেন মিয়ার দেয়া তথ্য আদালতকে জানান ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত। অধিদফতর আদালতকে জানায়, কোভিড ও নন-কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা, নাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে রয়েছে। লাইসেন্সধারি বেসরকারী হাসপাতালের তালিকা সরকারের কাছে আছে। কিন্তু কতোগুলোর লাইসেন্স নেই, তার কোন তালিকা নেই। লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, বর্তমান সরকার নিরাপদ জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। রাজধানীসহ সারাদেশের অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকা তৈরির কাজ এখনো চলছে। তালিকা তৈরির পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিস্থানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওই অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনসাধারণকেও সোচ্চার হতে হবে। কারণ ওসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

HostGator Web Hosting