| |

সর্বশেষঃ

যোগাযোগে ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় অর্থনীতির চাকা সচল : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ 4:41 pm | November 22, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। যার ফলে আজকে আমাদের অর্থনীতির চাকা অনেক সচল।

রোববার (২২ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার তিনটি সেতু ও পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম বকুল স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতির পিতার আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা ভাই সব হারিয়ে রিক্ত নিঃস্ব হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই আকাঙ্খাটা পূরণ করবো বলে। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই হবে। যা আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত জীবন দিতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

বারবার সরকার গঠনের সুযোগ দিতে দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদেরকে বারবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার সুযোগ দিয়েছে। সে কারণেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ৯৬ থেকে ২০০১ প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ যে অন্ধকার যুগে ছিল, একটু আলোর ঝলকানি পেয়েছিল ৯৬ থেকে ২০০১ সালে। বাংলাদেশের জন্য একটা স্বর্ণযুগ ছিল। কিন্তু আবার ২০০১ এর পর যে অত্যাচার নির্যাতন শুরু হলো। বাংলাদেশের মানুষ আবার প্রায় ৮টা বছর পিছিয়ে গেল। ২০০৯ এ যখন ফের আমরা সরকার গঠন করি তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে সরকারে আছি বলেই আজকে দেশের মানুষের উন্নতিটা করতে পারছি।

গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের যে জীবনমান উন্নত করা যায়, সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি। সেই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সহ অর্থনীতির চাকাটা সবসময় যেন সচল থাকে সবদিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েই কাজ করার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটা সংগঠন। আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই কোনো কিছু করেনি। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে তখন থেকেই কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল। জাতির পিতা কিন্তু এসব পরিকল্পনা বহু আগেই করে গেছেন। তিনি আমাদের যে সংবিধান দিয়ে দিয়েছিলেন সেই সংবিধানেই কিন্তু এদেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের কথা মৌলিক চাহিদা পূরণের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করে গেছেন।

‘সেই দিকেই অনুসরণ করেই আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনাটা নেই। ফলে অন্য কিছু করবার প্রয়োজন হয়নি এবং তার বক্তব্য যদি শুনি সেখানেই কিন্তু স্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে, কিভাবে এদেশের উন্নতি হতে পারে। আমরা সেটাই অনুসরণ করে সব সময় প্রস্তুতি নিয়েছি, পরিকল্পনা নিয়েছি এবং যখনি সরকারে এসেছি তা বাস্তবায়ন করেছি। যার ফলটা দেশের মানুষ পাচ্ছে বলে দাবি করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচি জাঁকজমকভাবে পালন করতে না পারার আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক আয়োজন ছিল। কিন্তু যেভাবে আমরা করতে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবে করতে পারিনি। করোনাভাইরাস নামে এমন একটা ভাইরাস সারা বিশ্বকে অচল করে দিল। শুধু বাংলাদেশ বলে না, সমগ্র বিশ্বের মানুষই কিন্তু এর জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির সময় সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহায়তা প্রদান করার জন্য, দেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রজাতন্ত্রের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীসহ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে, ইতিমধ্যে ক্রয় করার জন্য আমরা আগাম টাকা দিয়ে রেখে দিয়েছি। কাজেই সেইদিক দিয়ে দেশবাসীর চিন্তার কিছুই নেই। আমরা অন্যান্য সবকিছু বাদ দিয়ে আগে মানুষকে কিভাবে সুরক্ষিত করব, সেগুলি আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি বলে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু এই ধরনের একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের যে উন্নয়ন কাজগুলি চলছে সেজন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ আসলে পারে যেকোনো কাজ করতে। এটা জাতির পিতাও বলে গেছেন। কাজেই সেভাবেই আমরা করেছি।

উদ্বোধনকৃত তিনটা সেতুই এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে বিশেষ অবদান রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদীর ওপর ৬০০.৭০ মিটার দীর্ঘ এলাংখালী সেতু, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৫৭৬.২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু এবং যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় যশোর-খুলনা সড়কে ভৈরব নদীর ওপর ৭০২.৫৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

HostGator Web Hosting