| |

সর্বশেষঃ

সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, মন ভালো নেই কৃষকের

আপডেটঃ 12:23 pm | December 27, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতের সবজি চাষ, পরিচর্যা ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুমিল্লার কৃষকরা। আগাম জাতের সবজি ক্ষেত থেকে উঠিয়ে বিক্রি করে আবারও ওই জমিতে অন্য জাতের সবজি চাষে দিনের বেশির ভাগ সময় মাঠেই থাকছেন তারা। চাষের খরচ পুষিয়ে সবজি বিক্রিতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণে সবজির ক্ষতি এবং পোকা দমনে কীটনাশক ও সার প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ না পাওয়ায় সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারছেন না কৃষকরা।

কুমিল্লার সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর এলাকার মিরপুরে গোমতী নদীর চরে ১২ মাসই নানা জাতের সবজি চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুধু মিরপুর নয়, বিবির বাজার ভারত সীমান্ত থেকে শুরু করে গোমতী নদীর দুই পাড়ে সারাবছরই নানান জাতের সবজি চাষ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, সদর দক্ষিণ, লালমাই, বরুড়া, চান্দিনা, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, দেবিদ্বার এবং দাউদকান্দি ও চৌদ্দগ্রামের উঁচু এলাকাগুলোর ফসলি জমিতে শীতের সবজি চাষ হয়।
সদর পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর এলাকার কৃষক মমিন মিয়া তিন কানি জমিতে সবজি চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, গোমতীর চরে ১২ মাসই সবজি চাষ করেন। এখানকার মাঠি উর্বর হওয়ায় সবজিসহ যে কোনও ফসল ভালো হয়। তিনি তার তিন কানি জমিতে চাষাবাদ করে বছরে ৮/৯ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন।

আরও বেশি সবজি উৎপাদন করতে পারতেন জানিয়ে মমিন মিয়া বলেন, যদি উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন কৃষি অফিস থেকে ভালো মানের বীজ, সার ও সহযোগিতা বা পরামর্শ পেতেন। তাহলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারতেন। এক বছর হবে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকেই তারা চোখে দেখেননি। পাননি কোন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ। বর্তমানে মাঠে থাকা বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা ও লাউয়ের পাতায় লেদা পোকা ও উই পোকার আক্রামণে সবজি নষ্ট শুরু হয়েছে। পোকা দমনে দোকানে গিয়ে সমস্যার কথা বললে আন্দাজ করে দোকানদাররা যে কীটনাশক দিচ্ছেন সেটাই তারা সবজিতে প্রয়োগ করছেন। কিন্তু পোকার আক্রামণ রোধ করতে পারছেন না।
একই এলাকার মনির হোসেন দুই কানি এবং আহম্মেদ আলী পাঁচ কানি জমিতে ১২ মাসই সবজি চাষ করে যাচ্ছেন। তাদের মাঠে থাকা সবজিতে পোকামাকড় আক্রমণ করেছে। সঠিক মানের ওষুধ কিংবা কীটনাশক প্রয়োগে তারা কোনও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ পাচ্ছে না। তাদেরও অভিযোগ, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমি এই ব্লকে ২/৩ মাস আগে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। অসুস্থ থাকায় মিরপুরে গোমতী চরের কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তাদের মাঠে থাকা ফসলের খোঁজখবর নিতে পারিনি। আমি বর্তমানে অসুস্থ রয়েছি। তবে সুস্থ হয়ে সর্বপ্রথম ওইখানকার কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সবজি বা ফসলের খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে পরামর্শ প্রদান করবো।’
কুমিল্লা জেলা কৃষি কর্মকর্তা সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘আমরা কৃষকদের জন্য কাজ করি। আমাদের কাজেই কৃষকদের সেবা দেওয়া। কুমিল্লায় শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হচ্ছে। তবে মাঠের সবজিতে পোকামাকড় আক্রমণের বিষয় সহযোগিতা ও পরামর্শ নিতে পারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। যদি কৃষক তাদের কাছ থেকে সেবা না পান, তাহলে ওই কৃষক ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন। খুব বেশি জরুরি মনে করলে আমার কাছে অভিযোগ করতে পারেন। আমরা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা বোধ করবো না।’

HostGator Web Hosting