| |

সর্বশেষঃ

নদী এখন ফসলের মাঠ

আপডেটঃ 8:01 pm | March 12, 2021

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : যে নদীতে বছর জুড়ে পানির স্রোত প্রবাহিত হতো, চলতো পাল তোলা নৌকাসহ নানা রকম জলযান; সেই নদী এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাটেশ্বরী নদীর বুক জুড়ে এখন শুধু ফসলের ক্ষেত।

নদীটি উপজেলার দলপা ইউনিয়ন থেকে বলাইশিমুল ইউনিয়নের বসুর বাজার হয়ে নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কান্দিউড়া ইউনিয়নের ত্রিমোহনী ঘাটে গিয়ে সুতি সাইডুলি এবং রাজি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

কিছুকাল আগেও এ নদীর পানি সেচ দিয়ে নদীর দুইপাশে থাকা শত শত একর বোরো জমি চাষাবাদ করতেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ এবং সেতু নির্মাণের কারণে অল্পসময়ের মধ্যেই নাব্যহীন হয়ে পড়েছে নদীটি। তাই নদী তীরবর্তী ফসলি জমির মালিকরা সমস্ত নদী জুড়েই বোরো ধানের আবাদ করেছেন।

এছাড়া বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক মাসব্যাপী নদীটির বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁশের বাঁধ ও বানা দিয়ে নির্বিচারে মাছ নিধন করায় থেমে গেছে নদীর পানি প্রবাহ। অবশ্য এসব বাঁধ উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের বারবার সতর্ক করলেও কোনো কাজ হয়নি।

এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খবিরুল আহসান ওই নদীতে বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীতে থাকা অনেকগুলো অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছেন।

নদী পাড়ের কৃষক আতাউর রহমান জানান, এই নদীর পানি দিয়ে সারা বছর নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করা যেত। এছাড়া বোরো ফসলের মাঠে সেচ দেয়ার জন্য পানির কোনো চিন্তাই করতে হতো না। কিন্তু এখন আর নদীর বুকে সেচ দেয়ার মতো পানি নেই।

তিনি বলেন, এই নদীতে সারা বছর এলাকার জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন প্রভাবশালীদের বাঁধায় তারা আর নদীতে মাছ ধরতে পারে না। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা এখন বেকার। এছাড়া নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলাসহ স্থানে স্থানে বাঁধ দেয়ার ফলে স্রোত কমে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে। তাই থেমে গেছে নৌকা চলাচলও।

এ নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই নদীতে আর মাছ ধরা যাচ্ছে না। নদীটি খনন করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খবিরুল আহসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নদীর ভেতরে ব্যক্তি মালিকানা কোনো জায়গা নেই। যারা এই জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন, তাদের জানা দরকার এই নদী সরকারের। নদীটি জরুরিভাবে খনন করা হলে কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অনেক উপকারে আসবে।

HostGator Web Hosting