| |

সর্বশেষঃ

দলের চাপে সরে দাঁড়াল দেড় শতাধিক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

আপডেটঃ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫

ঢাকা প্রতিনিধি : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী (স্বতন্ত্র) অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত দলের চাপে পিছু হেঁটেছে। মনোনয়নপ্রত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন (১৩ ডিসেম্বর) অন্তত দেড়শতাধিক মেয়র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে এসেছেন। তবে বিদ্রোহীদের অনেকে ভয়ভীতির উর্ধ্বে থেকে এখনও নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমীন টুলী ররিবার রাত চারটায় ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া ৭ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি জানান, প্রত্যাহার শেষে নির্বাচনে বর্তমানে মেয়র পদে ৯২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩৩ জন, বিএনপির ২১৯ জন এবং জাতীয় পার্টির ৭৩ জন। বাকিরা স্বতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী।

ইসি সূত্র জানায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহার কারীদের অধিকাংশ বিএনপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী। দলের চাপেই মূলত তারা প্রার্থিতা করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান, দল থেকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন চাপেই তারা নির্বাচন থেকে সরে এসেছেন। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে দলীয় নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়েও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে।

ইসি বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপ দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হলো ওইসব সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ইসিতে লিখিত অভিযোগ করলে তা আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

৫ ও ৬ ডিসেম্বর মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে মোট ১ হাজার ৫৬ জন বৈধ প্রার্থী ছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত ৬৭১ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ৩৮৫। তবে ১৩ ডিসেম্বর আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মোট মেয়র প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯০ জন। এর মধ্যে প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬২ মনোনয়ন প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বী করবেন ৯২১ জন মেয়র প্রার্থী।

গাংনী পৌরসভার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। দল থেকে বহিস্কারের ভয় দেখিয়ে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

বাবুল ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রার্থিতা প্রত্যহারের জন্য দল থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল। আমি এ নির্বাচনে আমি যোগ্য প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু টাকা পয়সা খেয়ে অন্যজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার নামে মামলা রয়েছে বলে আমাকে মনোনয়ন দেয়নি।’

বাবলু বলেন, ‘হাইকমান্ড থেকে বলেছে- দলীয়পদ থেকে বহিস্কার করা হবে। এ ধরনের চাপ দিয়েই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।’

নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির অপর এক বিদ্রোহী প্রার্থী ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন না দিয়ে অযোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের প্রার্থীর হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই তারাই এখন মেয়র প্রার্থী।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নিশ্চিত বিজয়ী হতাম। কিন্তু দলে পক্ষ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হল।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি এক দিনের জন্য নয়। আর দলকে ভালোবাসি তাই প্রত্যাহার করলাম।’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়নি। বিদ্রোহীদের অনুরোধ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।’

‘তাদের ৪১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। বাকিরা এখনও নির্বাচনে রয়েছে।’ বলেন শাজাহান।

এদিকে বহিস্কারের হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রার্থী বলেন, ‘দলের জন্য অনেক করেছি। কিন্তু শেষমেষ কিছুই পেলাম না। পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষে অনেক দিন আগ থেকেই জনসংযোগ করে আসছিলাম। কিন্তু দল কেন্দ্র থেকে অন্য জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তারপরও নির্বাচন করার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রর চাপ ও বহিষ্কারের হুমকিতে শেষ পযন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলাম।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের ভাই আলি মুনসুর বাবু দর্শনা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। দলীয় প্রধানের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।

রবিবার রাতে মুনসুর ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি যোগ্য প্রার্থী ছিলাম। ভাই এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’

তবে সূত্র জানিয়েছে, দলীয় লোকজন এসে আলী মুনসুর বাবুর কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে গেছেন। পরে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিলে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়।

চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক যুবলীগ নেতা ইকবাল আজিজ শাহীনকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগসহ পুলিশি হয়রানি ও হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যতই চাপ আসুক নির্বাচনী মাঠ ছাড়বো না। পৌরবাসীকে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সমুচিত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি। দলের চাপেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তবে তিনি সেটি অস্বীকার করেছেন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি বলেন, ‘যেহেতু দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মনোনয়নপত্র পত্যাহার করেছি।’

চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রার্থিতা যারা প্রত্যহার করেছেন, তাদের এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। দলের আদর্শ, নীতি ও শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেই স্বপ্রণোদিত হয়ে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি করেনি।

এদিকে জোর করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে- এমন অভিযোগ ইসিতে লিখিত আকারে করলে তা আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখবে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী বলেন, ‘প্রার্থী দলীয় বা স্বতন্ত্র হোক ইসির কাছে সবাই সমান। কাজেই তারা একই রকম ব্যবস্থা ও সহযোগিতা পাবেন। কোনো প্রার্থী নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে অসুবিধা বা সহযোগিতা চান, সেটা আমাদের কাছ থেকে তারা পাবেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আইগতভাবে সহযোগিতা করব। তবে তাদের লিখিত অভিযোগ করতে হবে।’

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনু্ষ্ঠিত হবে। ১৪ ডিসেম্বর প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। এদিন থেকে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

HostGator Web Hosting