| |

সর্বশেষঃ

অজয় রায়ের মরদেহে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

আপডেটঃ ৪:২৯ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৯, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ও সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় রায়ের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।

বুধবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় তার মরদেহ। শুরুতেই ঢাকা জেলা প্রশাসন তাকে বিগল সহযোগে গার্গ অব অনার প্রদান করে। তার প্রিয় সংগঠন সম্মিলিত সামাজিক আন্দেলনের নেতারা শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা শফী আহমেদ শ্রদ্ধা জানায়। এরপর একে একে ঢাকা বিশ্বদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. কামাল হোসেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, কমরেড খালেকুজ্জামান সহি বিভিন্ন প্রগতিশীল নেতাকর্মী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, মহিলা ঐক্য পরিষদ, যুব মৈত্রী, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, নারী ‍মুক্তি আন্দোলনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক বিভিন্ন প্রগতিশীল, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগেসোমবার ভোরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

গত সপ্তাহে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অজয় রায়ের মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন স্ত্রী জয়ন্তী রায়। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে সুইজারল্যান্ডে এবং ছেলে ও ছোট মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

অজয় রায়ের জন্ম ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। তার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। বাবা প্রমথনাথ রায় বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন। মা কল্যাণী রায়।

অজয় রায় ১৯৪৫ সালে বারানসী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করে কিশোরগঞ্জে ফিরে আসেন। ১৯৪৮ সালে মুন্সীগঞ্জ থেকে বিকম পাস করেন। স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলজীবনে ১৯৪২ সালে কংগ্রেসের ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের জীবন শুরু হয়। এরপর ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর প্রতিরোধে, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর আন্দোলন সংগ্রামের সব পর্যায়ে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ।

অজয় রায় সংবাদপত্রে কলাম লেখার পাশাপাশি রাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এসবের মধ্যে আছে ‘বাঙলা ও বাঙালী’, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অতীত ও বর্তমান’, ‘বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থার সংকট ও সমাধান’, ‘বাংলার কৃষক বিদ্রোহ’, ‘শিক্ষানবিশীর হাতেখড়ি’, ‘রাজনীতির অ আ ক খ’, ‘পুঁজিবাদী অর্থনীতি’, ‘গণআন্দোলনের এক দশক’, ‘আমাদের জাতীয় বিকাশের ধারা’, ‘বাংলাদেশের বামপন্থী আন্দোলন’ ইত্যাদি।

পুরো শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। আয়োজনটির সঞ্চালনা করেন ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting