| |

Ad

সর্বশেষঃ

আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কায় উত্তরের কৃষক

আপডেটঃ ১:৫৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৬

দিনাজপুর প্রতিনিধি : ধানের জেলা দিনাজপুরসহ উত্তরের ৩ জেলায় আমন ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। পোকার উপদ্রব থেকে মুক্ত হতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও ভাল ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে করে আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ তাদেরকে সঠিকভাবে পরামর্শ প্রদান করছে না কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পোকার আক্রমণ এখনও সহনীয় বা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে। পোকা দমনে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছেন তারা।

চলতি আমন মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে আর এই জেলাসহ পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলে আমন ধান রোপন হয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় সবুজ সমারোহে পরিণত হলেও হঠাৎ করে কারেন্ট পোকা বা বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ আমন ধান ক্ষেত।

কৃষকরা জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের পরপরই আমন ক্ষেতে এই পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে কীটনাশক স্প্রে করে অনেকেই তাদের ফসল রক্ষা করতে পারলেও অনেকের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকদের মতে, এই পোকা কোনো ফসলে আক্রমণ করলে দ্রুত তা পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো ফসল নষ্ট করে দেয়। আর আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ফলন কমে যায়।

তাদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে তাদের কোনো পরামর্শ প্রদান করেন না। আর তাই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তাদের বিলম্ব হয়ে যায়।

দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের বলতৈড় গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এই পোকা কোনো ক্ষেতে আক্রমণ করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো ফসল নষ্ট করে ফেলে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ফলন কমে যায়।

কৃষক আজিজার রহমান জানান, এই এলাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের তেমন একটা পাওয়া যায় না। কোনো ধরনের পরামর্শ গ্রহণের জন্য তাদের কীটনাশক ডিলারদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। যদি আক্রমণের আগাম পূর্বাভাস কিংবা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সঠিক পরামর্শ পাওয়া যেতো তাহলে তাদের ফসলের ফলন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হতো না।

আতাউর রহমান জানান, তার রোপন করা প্রায় ২ বিঘা (৪৮ শতক) জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই পোকা আক্রমণ করায় এবারে তাদের ফলন অনেক কমে যাবে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, এই পোকার প্রকৃত নাম বাদামী গাছ ফড়িং। তবে এই পোকার আক্রমণ হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফসল নষ্ট করে বলে কৃষকরা একে কারেন্ট পোকা নামে অবিহিত করেছেন। এখন পর্যন্ত যে পোকা ধরেছে তা ক্ষতিকর পর্যায়ে নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জুলফিকার হায়দার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এখনও এটি নিয়ন্ত্রণ বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সার্বক্ষণিকভাবে কৃষি কর্মকর্তারা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে এবং কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন...