| |

সর্বশেষঃ

পইলের মাছ মেলায় মানুষের ঢল

আপডেটঃ ৬:২৬ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল এলাকায় আজ থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘মাছ মেলা’। পৌষ সংক্রান্তিতে এই মেলার আয়োজন এখানে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। প্রতি বছরের মতো এবারও পইল গ্রামের ঈদগাহের পাশে বসেছে এ ‘মাছ মেলা’।

জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই মেলা চলে আসছে। হবিগঞ্জের এই পইল গ্রামেই জন্ম বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকারী ও বাগ্মীনেতা বিপীন পালের। তার সময়কাল থেকেই এই মেলার শুরু।

রেওয়াজ মতো আজো মাছের মেলা বসেছে। সকাল হতেই বিক্রেতারা মাছ নিয়ে বসে পড়েছেন। মেলায় ছোট থেকে বড় ব্যতিক্রম মাছেরও দেখাও মিলছে। সচরাচর দেখা যায়না এমন মাছও এসেছে। যা কেবল এই মেলার জন্যই লালন-পালন করা হয়েছিল।

মেলায় এবার বাঘাইর, রুই, কাতলা, ঘাগট, বোয়াল, চিতল, কারফু, কালবাউস, গ্লাসকার্পসহ নানা জাতের মাছ এসেছে। এসেছে দেশীয় চিংড়ি, পুটি, কই, চাপিলা এসবও। হবিগঞ্জসহ তার আশপাশ এলাকার হাওর থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি’র জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

মেলায় আসছেন হাজার হাজার লোক। হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ এমনকি ঢাকা থেকেও এখানে মানুষ আসে। হাজার থেকে বেড়ে লাখো মানুষেরও সমাগম ঘটে। এ যেন এক মিলন মেলা। প্রাণের উৎসব। চলবে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা।

মেলায় হাওর, পাহাড় ও শহর এলাকার হিন্দুধর্মালম্বী ও আদিবাসীদেরই বেশি আগমণ ঘটে। মাছকে ঘিরে মেলা হলেও কৃষিজাত পণ্য, শিশু-কিশোরদের খেলনা, দেশীয় ফার্নিচার, তৈজসপত্র, সবজি ও ফল, শীতকালীন পোশাক, মিষ্টান্নসহ কমপক্ষে সহস্রাধিক স্টল নিয়ে জমে উঠেছে। মেলার কয়েকদিন পূর্ব থেকেই দোকানিরা বসার জন্য জায়গা প্রস্তুত করেন।

মেলায় ব্যবসায়ী কদর আলী ৩০ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ নিয়ে এসেছেন। তার ন্যায় অনেক বিক্রেতাই বড় বড় নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে এসেছেন।

শামীমা আক্তার ও তার স্বামী শওকত হোসেন সন্তানদের নিয়ে পইলের মেলায় এসেছিলেন। তারা প্রতিবছর এ মেলায় যোগদান করে মাছ ক্রয় করেন। প্রতিবারের ন্যায়  এবারও মেলা এসে বড় বড় কয়েকটি মাছ ক্রয় করেছেন।

মেলায় উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের বিনোদনের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। হবিগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনের ভিড়ের জন্য কয়েক মাইল দূরে যানবাহন রেখে দর্শনার্থীদের মেলায় আসতে হয়।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি পইল ইউপি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক জানান, যদিও সংক্রান্তির দিন মেলা বসে। কিন্ত মেলার পূর্ব ও পরের দিন মিলে মেলা গড়ায় তিনদিনে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মেলায় লোকজন নির্বিঘেœ আসারও সুযোগ করা হয়েছে।

তিনি জানান,  যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ মেলাটি এলাকার সাধারণ মানুষের একটি প্রাণের উৎসব। আবার কবে আসবে এ মেলাটি এ প্রত্যাশাই থাকে সকলের। শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হলেও পইল গ্রামের সাথে আরো উন্নত যোগাযোগ গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting