| |

Ad

সর্বশেষঃ

অন্বেষা স্কুল অবিলম্বে চালুর দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিভাবকদের স্মারকলিপি

আপডেটঃ ৫:২৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৬, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্ধ ঘোষিত ‘অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ’ অবিলম্বে চালু করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেড় শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমানের হাতে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোহসিন উদ্দিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে অভিভাবকরা জানান, অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ ময়মনসিংহ শহরের একমাত্র ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং বিকল্প অনুরূপ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই শহরে অথবা শহরের নিকটবর্তীস্থানে না থাকায় আড়াই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। স্কুলটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধিনে ‘ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি’র কারিকুলাম অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাথমিক ও জুনিয়র সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি বিধায় তাদের ‘পিএসসি’ এবং ‘জেএসসি’ সনদ নেই। ফলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা মিডিয়াম অথবা ইংলিশ ভার্সনের কোনো স্কুলে ভর্তির সুযোগও নেই। ঢাকায় ইংলিশ মিডিয়ামের যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সেতুলনায় ময়মনসিংহের অন্বেষা স্কুলের পড়াশোনার ব্যয় অনেক কম ও সকলের সামর্থের মধ্যে ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি চালু না থাকলে এসব ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ঢাকায় নিয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো অনেক অভিভাবকের পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব হবে না। ফলে তাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এদিকে চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীদের ‘প্রিটেস্ট’ বা ‘মক টেস্ট’ পরীক্ষা গত ২২ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ওই দিনই স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ায় ‘প্রিটেস্ট’ বা ‘মক টেস্ট’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। ফলে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিভাবকরাও সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহের মধ্যে শহরের স্বনামধন্য স্কুল সমূহে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় ‘প্লে’ গ্রুপ থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় কোমলমতি শিশু সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন। স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ায় অবুঝ ও কোমলমতি শিশুদের নানা প্রশ্নের মুখে অভিভাবকরা বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রতিদিনই শিশু শিক্ষার্থীরা ড্রেস পড়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বসে থাকে। এতে শিশুদের মনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের সাইনবোর্ডসহ দাপ্তরিক কাগজপত্রে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর আব্দুল মোনয়েম খানকে ‘শহীদ’ আখ্যা দেওয়াসহ ‘ডেডিকেটেড টু দি মেমোরি অফ শহীদ গর্ভনর আবুল মোনেম খান’ এইচ. পিকে (হিলালী অব পাকিস্থান) লেখা ও চাঁদতারা খচিত মনোগ্রাম মুছে ফেলেছেন। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্কুলটি পরিচালনা করবেন বলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা সচিব বরাবর এক আবেদনে অঙ্গীকার করেছেন। বিধায় কোমলমতি শিশুসহ আড়াই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যত চিন্তা করত; অবিলম্বে স্কুলটি চালু করার জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনয়েম খানকে ‘শহীদ’ আখ্যা দেয়া, প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাগজপত্রে ‘ডেডিকেটেড টু দি মেমোরি অফ শহীদ গর্ভনর আবুল মোনেম খান’ এইচ. পিকে (হিলালী অব পাকিস্থান) লেখা, মনোগ্রামে চাঁদ-তারা খচিত প্রতীক ব্যবহার করাসহ পাঁচটি অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২২জানুয়ারী স্কুলটি বন্ধ করে স্কুল গেটে নোটিশ টানিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

আরোও পড়ুন...