| |

Ad

সর্বশেষঃ

গফরগাঁওয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফাইজুল এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে

অন্ধ চোখে আলোর স্বপ্ন

আপডেটঃ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৭

গফরগাঁও প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : অন্ধ দু’চোখে আলোর স্বপ্ন নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর সংগ্রামী মুখ মোঃ ফাইজুল ইসলাম। দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত জন্মান্ধ ফাইজুল শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফাইজুল চলতি এসএসসি পরীক্ষায় গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছে। সে উপজেলার কাঠালিডিংগা মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ফাইজুলের বাড়ি উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কাঠালিডিংগা গ্রামে। হতদরিদ্র ভ’মিহীন বর্গাচাষী দুলাল মিয়ার (৫২) আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ফাইজুল। হতদরিদ্র দুলাল মিয়ার আট সন্তানের মধ্যে সাত সন্তানই নিরক্ষর। পরিবারের অভাবের কারনে দুলাল মিয়ার ৫ ছেলেকে অল্প বয়সেই রোজগারে নামতে হয়েছে, তারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। নিত্য অভাবী দুলাল মিয়া তার দুই মেয়ে পড়ালেখা করানোর কথা চিন্তাও করেনি। শৈশব থেকেই পড়ালেখা করার প্রবল ইচ্ছার কারনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ফাইজুলকে একটি এনজিও’র সহযোগিতায় জামালপুর জেলার সিংহজানি কাচারিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয় দুলাল মিয়া। সেখানে সে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ালেখা করে। তারপর সে জামালপুরের সিংহজানি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ালেখা করে। অভাবী পিতা দুলাল মিয়া তার অন্ধ সন্তান ফাইজুলের পড়ালেখা সামান্য খরচ চালাতে না পারার কারনে ফাইজুলকে অষ্টম শ্রেনীতে বাড়ির কাছে কাঠালিডিংগা মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়। এখানে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ালেখার সুযোগ না থাকায় ফাইজুলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। স্কুলের শিক্ষকরা ফাইজুলকে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে সাত হাজার টাকা প্রতিবন্ধি ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়। সে টাকায় ফাইজুলকে একটি মোবাইল ক্রয় করে দেওয়া হয়। স্কুলের শিক্ষকরা বইয়ের পড়া ফাইজুলের মোবাইলে রের্কড করে দেয়। আর রেকর্ড শোনে শোনে ফাইজুল পড়া মুখস্থ করে গত আড়াই বছর ধরে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছে, উত্তীর্ন হচ্ছে এবং এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছে।
বৃৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল কেন্দ্রের সরকারি কলেজ ভেনুতে গিয়ে দেখা যায়, ফাইজুল একজন শ্রুতি লেখকের সাহায্যে পরীক্ষা দিচ্ছে। সময় বেশি নাই, তাই সব কটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সে মরিয়া। কাঠালি ডিংগা মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ রাশেদ মিয়া তার শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। পরীক্ষা শেষে ফাইজুল জানায় বাবা-মা’র বিশেষ আগ্রহের কারনে সে পড়ালেখা করতে পারছে। তার ইচ্ছা বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে একজন শিক্ষক হওয়া। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিদের শিক্ষার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।
ফাইজুলের পিতা দুলাল মিয়া জানায়, শত অভাবের মধ্যেও তার আগ্রহের কারনেই ফাইজুলকে পড়ালেখা করানোর চেষ্টা করছি।
কাঠালিডিংগা মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে অন্ধদের পড়ালেখার করার কোন সুযোগ নেই,কোন শিক্ষক নেই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান অথচ মেধাবী সাইফুলের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহের কথা চিন্তা করে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছি।
কেন্দ্র কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বলেন, দৃষ্টি প্রতিবান্ধ ফাইজুলসহ অন্য প্রতিবন্ধিরা যাতে ভালভাবে পরীক্ষা দিতে পাওে সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরোও পড়ুন...