| |

Ad

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষে সাফল্য : আবারো ২কোটি টাকার মূল্যের কুমিরের চামড়া যাচ্ছে জাপানে

আপডেটঃ ২:২২ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৪, ২০১৫

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন :
২০০৪ সালে ময়মনাসিংহের ভালুকার হাতিবেড় গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড বাণিজ্যিকভাবে কুমিরের চাষ শুরু করায় এলাকার লোকজন এ নিয়ে রঙ্গরস, হাসি ঠাট্টা আর উপহাস করতো। সেই রঙ্গরসের বিষয়টি দেশের রাপ্তানি সামগ্রির তালিকায় নতুন মাত্রায় যুক্ত হয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এ ফার্ম থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো প্রায় দুই কোটি টাকার ৪০০টি কুমিরের চামড়া জাপানে রপ্তানি হচ্ছে। কোম্পানির প থেকে জানা যায়, রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড গত বছরের ২২ডিসেম্বর জাপানের হরিউঁচি ট্্েরডিং কোম্পানি নামে একটি টেনারিতে দেড় কোটি টাকা মুল্যের ৪৩০টি কুমিরের চামড়া বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করা হয়। এছাড়া সংরণ করে রাখা কুমিরের মাংস, দাঁত ও হাঁড় রপ্তানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ চলছে। তাদের মতে, কুমিরের মাংস শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হবে। জাপানিজ এ কোম্পানি গত ৩ বছর পরিদর্শণ করছেন। সবশেষ এ বছর হরিউঁচি ট্্েরডিং কোম্পানির লোকজন ৫ বার ফার্ম পরিদর্শণ করেন গত ২২ডিসেম্বর ৪৩০টি কুমিরের চামড়া নিয়ে যায়। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১০ সালের জার্মানির একটি ইউনিভার্সিটিতে ছোট বড় মিলিয়ে ৬৭টি কুমির এক কোটি টাকা বিক্রি করেন। ২০১৩ সালের আক্টোবর মাসে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে উপহার হিসাবে ৫ টি কুমির দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ই,এফ ফান্ডের অর্থায়নে ভালুকা উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দুরে হাতিবেড় গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড নামে ১৩একর ৫৬ শতক জমি ক্রয় করে ২০০৪ সালের ২২ডিসেম্বর ৭৪ টি কুমির নিয়ে খামারটি শুরু করে। মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫ টি কুমির আনা হয়। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৮টি কুমির মারা যায়। তৎকালীন সময় কুমির গুলির বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর ছিল। কুমিরগুলো৭ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১২ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা। কুমিরের গড় আয়ু ১০০ বছর। আমদানিকৃত কুমিরের মধ্যে ১৫ টি পুরুষ রয়েছে।

Bhaluka (1)

প্রতি মাসে এদের ৩০০ কেজি মাংস খাবার হিসেবে দেয়া হতো। বন্য অবস্থায় ১০/১২ বছর বয়সে এবং ফার্মে ৬/৭ বছর বয়সের একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (এপ্রিল-মে মাসে) ৪০ থেকে ৫০ টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকার দিয়ে আরও ৪০ টি ব্রিডার কুমির ক্রয় করে আনা হয় । খামারে ৯০টি মা কুমির রয়েছে। এছাড়াও খামারের নিজস্ব উৎপাদিত ছোট বড় মিলে ১৫শতাধিক কুমির রয়েছে যে গুলির দৈর্ঘ্য ৩ ফুট থেকে সাড়ে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা। কুমিরের কোন কিছুই ‘ফেলনা’ নয় বলে চামড়া, গোসত, দাঁত ও হাঁড় বিপণন করা যায়। চিন, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া,তাইওয়ান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের কুমিরের গোস্তের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, সিংগাপুর, পাপুয়া নিউগিনি, ইন্দোনেশিয়া, চিনসহ প্রায় অর্ধশত দেশে কুমিরের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এশিয়ার মধ্যে প্রথম বাংলাদেশে ‘কুমিরচাষ’ করা হয়। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান‘রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড’ এর একটি প্রকল্প। ঝুঁকিপূর্ণ এ প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইএফ ফান্ড থেকে। এছাড়াও ৫০ টি কুমির দিয়ে গত বছর আকিজ গ্রুপ বান্দরবানের নাইণছরিতে আর একটি কুমিরের বাণিজ্যিক খামার শুরু করেছেন। ফার্ম ম্যানেজার আবু সাইম মোহাম্মদ জানান, এ বছর ২২ টি মা কুমির ১হাজার ৩২টি ডিম দিয়েছিল। যা থেকে এ পর্যন্ত ৫শতাধিক বাচ্চা ফুটেছে। ২০১৪ সাল থেকে কুমির প্রজনন ও উৎপাদনের স্বার্থে দর্শণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ প্রকল্পটি চালু হওয়ায এলাকার নারী সহ ৩০/৪০জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আরোও পড়ুন...