| |

সর্বশেষঃ

আনন্দঘন মিলনমেলায় বইয়ের বিকিকিনি

আপডেটঃ ৫:০৮ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রন্থমেলা এক মিলনমেলা। সেখানে লেখক, প্রকাশক আর পাঠকের সম্মিলন ঘটে। চলে গল্প, কবিতা আর সাহিত্য নিয়ে নানা আলোচনা। আড্ডা, ঘুরাঘুরি- এসবের মধ্য দিয়েই চলে বইয়ের বিকিকিনি। আর এমনটা শুরু হয় মেলার সপ্তাহখানের পরেই। এবারের গ্রন্থমেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এরই মধ্যে বেশিরভাগ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে উল্লেখযোগ্য সব লেখকের নতুন বই। পাঠকরা তাদের প্রিয় লেখকের নতুন বই সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। তার সঙ্গে মিলছে প্রিয় লেখকের সঙ্গে আলাপ, সেলফি তোলা আর অটোগ্রাফ নেয়ার সুযোগ।

মেলাজুড়েই এখন আনন্দঘন পরিবেশ। আর তা আরও ব্যাপকতা পাবে  সোমবার। এদিন বাংলার বুকে ধরা দেবে ঋতুরাজ বসন্ত। তার রং লাগবে গ্রন্থমেলায়ও। তারও একদিন পর মঙ্গলবার রয়েছে ভালোবাসার দিন ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’।

শনিবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন। ছুটির দিন বলে মেলার দ্বার খুলে যায় বেলা ১১টায়। ছিল শিশুপ্রহরও। সকালে শিশুরা শিশুচত্বরে এসে তাদের পছন্দের বই কিনেছে। মা-বাবার হাত ধরে ক্ষুদে মুখগুলো আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। তবে শিশুদের আকর্ষণের মূলে শনিবারও ছিল সিসিমপুরের হালুম, ইকরি আর টুকটুকিদের নাচ-গান। অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও মেলায় আসতে দেখা গেছে। তারা ঘুরে ঘুরে বই সংগ্রহ করেছে।

শুক্রবারের মতো জনস্রোত না থাকলেও শনিবার বিকালে মেলায় ভিড় ছিল বেশ। আড্ডার আমেজে মেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা বাংলা একাডেমিতে ঘুরতে ঘুরতেই বই কিনেছে পাঠকরা। মেলার আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা গেছে অনেক প্রকাশকদেরও। তাম্রলিপির স্বত্বাধিকারী একেএম তরিকুল ইসলাম রনি আর ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের স্বত্বাধিকারী আদিত্য অন্তরকে দুপুরে দেখা গেল মেলার এক কোণে নিরেট আড্ডায়।

অন্যদিকে অন্বেষার স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন ব্যস্ত ছিলেন বইয়ের খবরাখবর নিয়ে একটার পর একটা চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে। আর আগামীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণিকে পাওয়া গেল মোড়ক উম্নোচন মঞ্চে। বইয়ের মোড়ক উম্নোচন শেষ করেই তিনি লেখকদের সঙ্গে মেতে ওঠেন আড্ডায়। এমনি মিলনমেলায় আনন্দঘন পরিবেশে চলছে বইয়ের বিকিকিনি।

বিকালে মেলা পরিদর্শনে আসেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি মোড়ক উম্নোচন মঞ্চে বেশ কিছু বইয়ের মোড়ক উম্নোচন করেন। এর মধ্যে উৎস প্রকাশনী থেকে সাহাদাত পারভেজের ‘গজারিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইটি অন্যতম। মেলা ঘুরে সংস্কৃতিমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ মেলায় বজায় রাখতে চাই। পাঠকরা যাতে এসে নির্বিঘ্নে মেলায় ঘুরতে পারে, বই সংগ্রহ করতে পারে, ক্লান্ত হলে একটু বসে বিশ্রাম নিতে পারে- এ দিকগুলো নিশ্চিত করেছি। মেলায় সোহরাওয়র্দী উদ্যানের অংশে যে ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছে তার আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।

এদিন বিকালে মেলায় আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে কখনোই সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিকালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ফাতেমা সালমার ‘সুন্দরী শূন্য’ বইয়ের মোড়ক উম্নোচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সন্ধ্যায় মেলায় আসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি মেলা ঘুরে দেখেন। এবারের মেলায় চারুলিপি প্রকাশন থেকে প্রকাশ হয়েছে তার লেখা গ্রন্থ ‘রুখে দাঁড়াবার সময়’।

নতুন বই : শনিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ২০১টি। মোড়ক উম্নোচন মঞ্চে ৬২টি নতুন বইয়ের মোড়ক উম্নোচন করা হয়। নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে- আগামী থেকে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’, আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ‘জরুরি আইনের সরকারের দুই বছর (২০০৭-২০০৮)’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে আহমদ রফিকের ‘সংঘাতময় বিশ্বরাজনীতি’, চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে ড. আনিসুজ্জামানের ‘কথার কথা’, পাঞ্জেরী থেকে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘কিশোর উপন্যাস সমগ্র-২’, অন্বেষা থেকে নুরুজ্জামান লাবুর ‘হোলি আর্টিজান একটি জার্নালিস্টিক অনুসন্ধান’, কথাপ্রকাশ থেকে লুৎফর রহমান রিটনের ‘ভ্রমর যেথা হয় বিবাগী’, ঐতিহ্য থেকে বিধান রিবেরুর ‘অনুভূতিতে আঘাতের রাজনীতি ও অন্যান্য’, অন্যপ্রকাশ থেকে শাহাবুদ্দীন নাগরীর ‘আকবর রাজাকার হয়েছিল’, দি রয়েল পাবলিশার্স নির্মলেন্দু গুণের ‘যুগল কাব্য’, কথাপ্রকাশ থেকে মোশতাক আহমেদের ‘কঙ্কাল ঘর’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে আহমেদ রফিকের ‘ঢাকার মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো’, যুক্ত থেকে হাবিবুর রহমান হাবুর ‘তাড়িত অ-বলা ধ্বনি’।

মেলামঞ্চের আয়োজন : শনিবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আবদুল গফুর হালী : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসির উদ্দিন হায়দার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাহমান নাসির উদ্দিন এবং সাইমন জাকারিয়া। সভাপতিত্ব করেন শামসুল হোসাইন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী কল্যাণী ঘোষ, কান্তা নন্দী, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস এবং সাজেদুল ইসলাম ফাতেমী।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting