| |

সর্বশেষঃ

আত্মঘাতী জঙ্গিবাদ

আপডেটঃ ১:০৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৮, ২০১৭

রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর এবার খিলগাঁওয়ে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে কেন এই ধরনের হামলা হচ্ছে সেটি ভাবিয়ে তুলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই যদি নিরাপদ না থাকেন তাহলে জননিরাপত্তায় তারা ভূমিকা রাখবেন কী করে এই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্প সংলগ্ন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অস্থায়ী ক্যাম্পে এক যুবক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই যুবক। এ ঘটনায় র্যাবের দুই সদস্য আহত হন। আশকোনায় হজ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দফতর নির্মাণাধীন। সেখানে ওই যুবক দেয়াল টপকে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে গোসল করছিলেন কয়েকজন র‌্যাব সদস্য। তারা ওই ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করলে আত্মঘাতী যুবক নিজের সঙ্গে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যদিকে আজ ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে খিলগাঁওয়ে এক যুবক মোটরসাইকেলে করে র‌্যাবের তল্লাশি চৌকির কাছাকাছি আসেন। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাকে থামতে বলেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ অমান্য করে না থেমে ‘ক্রস’ করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতির কারণে তাকে গুলি করে র‌্যাব। এতে তিনি নিহত হন। আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে গুলিতে নিহত যুবকের শরীরে বাঁধা বন্ধনীতে কয়েকটি বোমা পাওয়া গেছে। যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে হাতে তৈরি বড় একটি বোমা পাওয়া গেছে।

আশকোনায় হামলায় দায় স্বীকার করেছে আইএস। তবে র‌্যাব এ দাবি অস্বীকার করেছে। অপরদিকে খিলগাঁওয়ে নিহত যুবক জঙ্গি কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চট্টগ্রামে চার জঙ্গি নিহত হওয়ার পর রাজধানীতে পর পর দুইটি হামলার ঘটনায় নিয়ন্ত্রণে থাকা জঙ্গিরা যে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠছে এটি প্রমাণ করছে। জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষও ধর্মের নামে এ ধরনের অপতৎপরতাকে মেনে নেয়নি। এ কারণে জঙ্গিবাদ এখানে জনমর্থন পায়নি। পাওয়ার কথাও নয়। ভরসার জায়গাটি এখানে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদ রুখতে। পরিবারকেও খোঁজ খবর নিতে হবে তাদের সন্তানাদি সম্পর্কে। কোথায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ হয়, কারা অস্ত্র দেয়, অর্থ দেয়, মদদই বা দেয় কারা সবার হদিস করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন কেন এই ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে সব নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে খতিয়ে দেখতে হবে সেটিও। জঙ্গিবাদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting