| |

Ad

সর্বশেষঃ

অস্থিতিশীল চালের বাজার

আপডেটঃ ২:০৩ অপরাহ্ণ | মার্চ ২১, ২০১৭

বাংলাদেশের বাজারের গতি-প্রকৃতি বর্ণনা করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সাধারণত খরা, বন্যা বা অন্যান্য কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে খাদ্যশস্যের ঘাটতি হয়। চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যায়। সরকার তখন আমদানির সুযোগ বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। গত কয়েক বছর দেশে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়নি। চালের উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। সরকারি-বেসরকারি সব গুদামেই প্রচুর চাল রয়েছে। হরতাল বা অন্য কোনো কারণে পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়নি। বাজারেও চালের প্রচুর সরবরাহ আছে। তবু চালের দাম বাড়ছেই। কেন? কারণ একটাই। বড় ব্যবসায়ীদের জোটবদ্ধতা। তাঁরা একজোট হয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর বাজারে তো সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। তাই তাদের দাম কমানোর কোনো উদ্যোগই কার্যকর হয় না।
বৈশাখের মাঝামাঝি বোরো ধান কাটা শুরু হবে। এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি। দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের জন্য এই সময়টাকেই কাজে লাগাতে চান কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী। অথচ এই সময়টায় দেশের বেশির ভাগ গরিব কৃষকের হাতে কাজ থাকে না বললেই চলে। তাদের আয়-রোজগার কম থাকায় চালের দাম বাড়ার নির্মম শিকার হবে মূলত তারাই। বিপাকে পড়বে স্থির আয়ের নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত প্রায় সবাই। সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করতে হবে। সরকারি গুদামের চাল দিয়ে কিভাবে বাজারের সরবরাহ ঠিক রাখা যায়, তার উপায় খুঁজতে হবে। খোলাবাজারে বিক্রির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে। সর্বোপরি যুক্তিহীনভাবে যারা চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ এখন চাল উৎপাদনে স্বনির্ভর। সীমিত পরিমাণে রপ্তানিও হয়। কিন্তু তার সুফল কি সবাই পাচ্ছে? বেশির ভাগ দরিদ্র কৃষকের নিজস্ব জমি নেই কিংবা জমির পরিমাণ অতিসামান্য। সারা বছরের ধান তারা সেই জমি থেকে পায় না। আবার অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ধান বিক্রিও করে দেয়। অথচ উৎপাদন মৌসুমে তাদের ধান বিক্রি করতে হয় রীতিমতো পানির দরে। সেখানেও থাকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। কত কম দামে ধান কেনা যায়, তখন চলে সেই প্রতিযোগিতা। ধান কেনা হয়ে গেলে বা আড়তদার-মজুদদারদের গোলায় চলে গেলেই শুরু হয় উল্টো খেলা, দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। কৃষককে তখন দ্বিগুণ দামে আবার তা কিনতে হয়। ধান-চালের বাজারের এই অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারকে এর উপায় খুঁজে বের করতেই হবে। বিশেষ করে নতুন ধান ওঠার আগে আগে বাজার অস্থিতিশীল করার সব অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

আরোও পড়ুন...