| |

Ad

সর্বশেষঃ

অসময়ে বন্যা, দিশেহারা হাওরের কৃষক

আপডেটঃ ২:০৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৪, ২০১৭

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে হাওর পাড়ের কৃষকের লালিত স্বপ্ন।

ধান রক্ষার শেষ ভরসাটিও হুমকির মুখে পড়েছে হাওরবাসীর। একের পর এক বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। নিচু জমির পাশাপাশি উঁচু জমিও ডুবতে শুরু করেছে। ছোট বড় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে প্রায় পঞ্চাশ ভাগেরও বেশি ধানখেত।

প্রবল বর্ষণের ফলে হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ বাধ রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন কৃষকরা। বৈরি আবহাওয়ায় বেঁচে যাওয়া ধানগুলোও ঘরে তুলতে পারছে না তারা। বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের কৃষকরা দিশেহারা এখন।

চৈত্রের শুরুতে যে ঢল নেমেছিল হাওরের বুকে, বৈশাখে এসে তা প্রবল আকার ধারণ করেছে। পুরো হাওরে এখন পানি আর অসহায় কৃষকের বোবা কান্না। কিভাবে এবার ঋণের টাকা মেটাবেন সে ভাবনায় দিশেহারা কৃষক।

হাওরে এখন আর সবুজ ধান চোখে পড়ে না, চারিদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। টানা বর্ষণে ধানখেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। পঁচতে শুরু করেছে ধান। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানখেত কেটে অনেককে আবার গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অবশিষ্ট যা ছিল সেটাও এবার পুরোপুরি নষ্ট হবার পথে।

প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পালা করে হাওরে কাজ করছেন লোকজন। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোনো ভরসা পাচ্ছে না তারা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ রক্ষাও হবে না। বোরো ফসল ঘরে তোলার আশা এখন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

কৃষকরা অচিরেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। অন্তত হাওরের সকল জলাশয়গুলো যেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। স্বপ্ন তো এখন পানির নিচে। পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হাওরের মাছই এখন শেষ অবলম্বন। তাই তারা সরকারের কাছে হাওরের জলাশয় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মেঘনা, কালনী, কুশিয়ারা, ধনু, ঘোড়াউত্রা, ধলেশ্বরীসহ ছোটবড় সব নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। এসব নদীর পানিই দু-কূল উপচে ঢুকে যাচ্ছে হাওরে।নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরফদার আক্তার জামিল হাওর পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে রাইজিংবিডিকে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এ পর্যন্ত ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার ও প্রশাসন সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে রয়েছে। এ ছাড়াও ২৫ লাখ টাকা ও দুই হাজার মেট্রিক টন চাল চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিন হাওর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অষ্টগ্রাম। সাধারণভাবে ধান পাকার পর বৈশাখের মাঝামাঝি কিংবা শেষে হাওর ডুবতে থাকে। কিন্তু এবার ধান পাকার আগেই নদী ও খালের পানি উপচে ফসল তলিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও করিমগঞ্জের অন্তত ৫২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশ কোটি টাকা।

স্থায়ী অবকাঠামো দিয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলো নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে নাব্যতার সঙ্কটে ভোগা নদ-নদীগুলো খনন করা হলে এ ধরনের অকাল বন্যায় হাওরের ফসলহানি অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। তাই তারা সরকারের কাছে হাওরের ফসল রক্ষায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। পাশাপাশি হাওরবাসী বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য ও আরো বেশি ত্রাণ পাঠানোর কথা বলেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওরের জলাশয়গুলোতে মাছ ধরতে উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন...