| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

সরকার ক্ষমতা হারালে নেতাকর্মীদের দেশ ছাড়তে হবে : ওবায়দুল কাদের

আপডেটঃ 5:58 pm | April 29, 2017

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : দলের নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সরকার ক্ষমতা হারালে নেতাকর্মীদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’ তাই সময় থাকতে অবৈধভাবে উপার্জন করা অর্থ দেশের উন্নয়নে ব্যয় করার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘অবৈধভাবে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে কি করবেন? যদি দল ক্ষমতায় না থাকে। দলকে ক্ষমতায় রাখতে এবং আগামী নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগ আবারও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারে সে জন্য সকল অর্থ দেশের জন্য, জনগণের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করুন।’

শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন কিং অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেছেন, ‘দেশের টাকা লুট করে উন্নয়ন বন্ধ করে মানুষের মন জয় করা যায় না। সরকার যদি দেশের মানুষকে ভালোবেসে একের পর এক উন্নয়ন করে যায়, তাহলে জনগণ সেই সরকারকে বারবার সুযোগ দেয় দেশ শাসনের জন্য। সুতরাং দেশের উন্নয়নখাতে ব্যবহৃত কিছু লুট করে বড়লোক হওয়ার লালসা করবেন না। কারণ, সেই অর্থ ভোগ করতে হলে আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। আর এই লালসার ফলে আপনার সরকার ক্ষমতায় না থাকলে আপনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’

এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের(বিএনপি) সমালোচনা করে তাদের নালিশ পার্টি বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের এ শীর্ষ নেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি এখন জাতীয় নালিশ পার্টি হিসেবে পরিণত হয়েছে। তাদের কাজ হলো শুধু দেশের মানুষের কাছে নয়, সারাবিশ্বের মোড়লদের দরবারে-দরবারে গিয়ে নালিশ পেশ করা। আর এতকিছু করার পরও তারা প্রতিটি পদে-পদে ব্যর্থ হচ্ছে। তার প্রমাণ হলো কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া আমেরিকার নির্বাচনকে ঘিরে তাদের ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। তারা ভেবেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন সফল হলো না। এর আগেও ভারতের নির্বাচনকে নিয়েও ছিল তাদের উৎসবমুখর মাতামাতি। কিন্তু তাদের দেওয়া সব নালিশ একে একে ভেস্তে গেছে।’

আগামী নির্বাচনে দলটিকে অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আপনাদের কাছে আকুল আবেদন, পরের দেশে ভিক্ষা না চেয়ে নিজের দেশের জনগণের কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে আসেন। আর তাতে জনগণ আপনাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকালে ক্ষমতায়ও আসতে পারেন। সুতরাং, সহিসংতা বন্ধ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধনে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।’

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সম্প্রতিক বিরোধ নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধি সভায়। মহানগর সভাপতি এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, আর এ ঘাঁটি রক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আপনার। নাছির কোন ভুল করলে সেটা বাইরে জানাজানি হওয়ার আগেই নাছিরকে ঘরে ডেকে মিটিয়ে নেবেন। মনে রাখবেন, আপনাদের ঐক্যতেই প্রধানমন্ত্রীর সামনে নির্বাচনে জয়ের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে। আমরা চাই, চট্টগ্রামের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কারণ আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা সারা বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ থাকি।’

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ লতিফ।

HostGator Web Hosting