| |

সর্বশেষঃ

ঠোঁট সেলাই করে প্রতিবাদ

আপডেটঃ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৫, ২০১৫

গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তে অনশনে বসেছে শরণার্থীদের একটি দল। নিজেদের ঠোঁট সেলাই করে রেখেছে তারা। সীমান্তে আটকে থাকা এই প্রতিবাদকারীরা হাজারো শরণার্থীর একটি অংশ । বেঁচে থাকার আশায় নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইউরোপের মাটিতে পা রেখেছে এরা। কিন্তু এখনো আশ্রয় মেলেনি। ইউরোপের দেশগুলোর বৈরী আচরণের প্রতিবাদে এই অভিনব যন্ত্রণাদায়ক প্রতিবাদ তাদের। নাইলন সুতা দিয়ে তাদের ঠোঁট সেলাইয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।এই শরণার্থীদের বেশিরভাগই যুদ্ধবিধ্বস্ত আরব দেশ সিরিয়ার নাগরিক। গত ১৭ নভেম্বর স্লোভেনিয়া, মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া সিদ্ধান্ত নেয় কেউ সিরিয়া, আফগানিস্তান বা ইরাকের নাগরিক হিসেবে কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে তাকে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বলকান রাষ্ট্রগুলোর ওই সিদ্ধান্তের পরই দেশগুলোর সীমান্তে আটকা পড়ে হাজার হাজার শরণার্থী।

সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকদের না নেওয়ায় ইদোমানি সীমান্তে ইরানী, মরোক্কান এবং অন্যান্য দেশের অন্তত দুই হাজার নাগরিক আটকা পড়েছেন।

সেখানকার অবস্থা এখন খুবই শোচনীয়। গত শনিবার এই দলের একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। লোকটি ছিলেন পাকিস্তানী।

প্রচণ্ড শীতের কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

ওদিকে বলকান রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের বাইরের লোকদের ‘অর্থনৈতিক অভিবাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

নানান কারণেই ইউরোপমুখী শরণার্থীদের মধ্যে পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো বা অন্যান্য আরব বা অনারব দেশের মানুষ থাকতে পারে। আবার এদের মধ্যে থাকতে পারে ভাগ্যান্বেষী কিছু মানুষ। কিন্তু তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ ও প্রচণ্ড শীতে সীমান্তে ঠেকিয়ে রাখা তো তার সমাধান নয়। এটা কোনোমতেই জাতিসংঘের গৃহীত আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting