| |

সর্বশেষঃ

পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল

আপডেটঃ ৪:০৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৫, ২০১৫

পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর। দেশে এবার পৌরসভা নির্বাচন ভিন্ন এক আবহে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো পৌরসভার মেয়র পদে দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে। সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন অত্যাসন্ন বিধায় দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচনের বিধান রেখে ২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০১৫-এ সংশোধনী এনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন। পরে এ সংক্রান্ত বিলটি জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়।

 

এতদিন এই নির্বাচন কাগজে-কলমে অরাজনৈতিক থাকলেও বাস্তবে দলীয় রাজনীতিমুক্ত ছিল না। শুধু প্রতীকটিই থাকত নির্দলীয়, বাকি সবই ঘটত রাজনৈতিক দলের নামে। দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিত, প্রচারকার্য চালানো হতো কার্যত দলীয় পরিচয়েই, এমনকি মিডিয়া যে ফলাফল ঘোষণা করত, তা-ও হতো দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই। এবার দলীয়ভাবে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনপ্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করবে। সরকারবিরোধী অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সরকারের দুরভিসন্ধি হিসেবে আখ্যায়িত করলেও দলটি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি একটি ভালো লক্ষণ। আমরা মনে করি, নিবন্ধিত সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই তা হবে অর্থবহ। সে ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তারা কাদের নিয়ে নির্বাচন করবে, সে প্রশ্ন তারা তুলতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা বলব, যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের সাজা হওয়াই উচিত; কিন্তু যাদের রাজনৈতিক কারণে বা ছোটখাটো অপরাধে আটক করা হয়েছে, তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মোট কথা, পৌরসভা নির্বাচন যেন প্রকৃতই দলীয় প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পৌরসভা হল স্থানীয় সরকারের একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন এবং এ বছর অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। আমরা আশা করব, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন তার আস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting