| |

Ad

সর্বশেষঃ

ইসলামপুরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি

আপডেটঃ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ৩০, ২০১৭

জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরের ইসলামপুরে এ বারের ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজকালর্ভাট, কৃষি, মৎস্য, প্রাণি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দীর ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের চার লক্ষাধিক বানভাসী মানুষদের ঈদের খুশি ম্লান হয়েগেছে।
উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিস জানায়, স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় ইসলামপুর উপজেলার ৯৮ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সরকারি হিসাবে ১৬০টি গ্রামের ২৯ হাজার ৩৪০টি পরিবারের এক লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তিন গুণের বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।

এসব পরিবারের ১০-১৫ হাজার ঘরবাড়ি পানির ¯্রােতে ভেঙ্গে চুড়ে তছনছ হয়ে গেছে। এতে ২০০ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ত সূত্র জানায়, পানির প্রচন্ড তোড়ে ১৪৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা,২২০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাসহ ৩৬৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ২৩টি ব্রিজ-কার্লভাট ভেঙ্গে গেছে। এতে ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, ৯৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ ও আসবাপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, দু’দফা বন্যায় উপজেলার এক হাজার ৭৮১টি পুকুরের প্রায় ১৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে সহ¯্রাধিক মৎস্য চাষি নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। উপজেলা মৎস্য চাষী সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান চাঁন জানান, বন্যায় সহ¯্রাধিক মৎস্য চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসেছে। সরকারি সহযোগীতা না পেলে তারাদের পক্ষে আর ঘূরে দাড়ানো সম্ভব নয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যায় উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও পৌর সভার ৯৮ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় সাত হাজার ৪০০ হেক্টর রোপ আমন ক্ষেত, ৭২০ হেক্টর শাকশবজী, ১১০ হেক্টর বীজতলা ও ৩৫ হেক্টর কলা আবাদসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া বানের পানির প্রচন্ড ¯্রােতে এক হাজার হেক্টর জমির পাটের জাগ ভেসে গেছে বলে কৃষকরা জানান। এতে প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাণি সম্পদ দপ্তর জানায়, উপজেলার অর্ধশতাধিক লেয়ার ও ব্রয়লার খামারের মুরগি, গরুবাছুর, ছাগল-বেরা ও হাঁস-মুরগিসহ হাজার হাজার গবাদিপশু মারা গেছে। এ বিভাগের প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, এ বারের বন্যার ভয়াবহ রূপ যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের মানুষদের আজো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বন্যার ভয়াবহতার কথা মনে হলেই চমকে ওঠেন এ অঞ্চলের বানভাসী মানুষরা। পানির প্রবল ¯্রােতে চোখের সামনেই ভেসে গেছে তাদের রক্তঘামে গড়া প্রিয় ঘরবাড়ি। বন্যার পানি কমার পর বাড়ি ফিরে তারা অনেকেই তাদের সেই প্রিয় ঘরটি দেখতে পায়নি। এমন কথা বললেন কুলকান্দি ও পাথর্শী ইউনিয়নের কয়েক জন অসহায় মানুষ। ভাঙ্গা ঘরবাড়ির কারণে এখনও অনেকেই ঘরে ফিরতে পারেনি। পার্থশী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামের অবসার প্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রহিম মাষ্টারের সামনেই তার পাকা ঘরসহ আত্মীয়-স্বজনের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে ঈদের খুশি ম্লান হয়েগেছে।

আরোও পড়ুন...