| |

সর্বশেষঃ

গ্রামীণ জীবনের উৎসব খেজুরের রস

আপডেটঃ ৪:১৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৬, ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন : খেজুর গাছকে অনেকে শখ করে মধুবৃ বলে থাকেন। শীতের আগমনে মধুবৃ খেজুর গাছের কদর অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায় । তবে এখন আর এই অঞ্চলে অসংখ্য খেজুর গাছ আগের মত মাঠ জুরে দেখা যায়না। এক সময় খেজুর রসের যে সমারোহ ছিল তা কমে যাচ্ছে। এক সময় শীতের সকালে রস বিক্রেতারা ভাড় বাঁশে হাড়ি কাঁধে নিয়ে খেজুরের রস বিক্রি করত। কালের পরিক্রমায় সেই দৃশ্য আগের মত আর দেখা যায় না। এত কিছুর পরেও গাছীরা খেজুর গাছ থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে চলে। গ্রামের কন্যা-বধূরা সেই রস জ্বালিয়ে পাতলা, ঝোলা গুড়, নলেন গুড়, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করে থাকেন। ‘যত শীত পড়বে তত খেজুর গাছ মিষ্টি রস দেবে’ এ কথাটি মনে রেখে গ্রামীণ পরিবারগুলো শীতজুড়ে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েশ আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারের সদস্যরা শহরে বসবাস করেন তাদের খেজুরের রসের পুলি, পায়েশ, পিঠা খাওয়ানোর জন্য গ্রামে নিমন্ত্রন করে আনা হয়। শীতে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণকারী গাছীদের প্রাণচঞ্চলতা বাড়ে। গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের পাঁচাহার গ্রামের গাছি মুর্শিদ মিয়া (৬০) বলেন মৌসুমে গাছিরা এক একটি গাছ প্রায় আড়াই হাজার টাকার রস সংগ্রহ করতে পারে। তিনি জানান, প্রায় ৩৫ বছর যাবত খেজুর গাছ কাটছেন। আগে প্রতি বছর ৭০/৮০টি গাছ কাটতেন। এখন প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০টি গাছ কাটেন। তিনি বলেন, ইটভাটা ও টলি তৈরির কারখানার মালিকরা খেজুর গাছ কেটে সাবার করে দিচ্ছে।
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পর মাঠ সোনারাঙা ধান, গোলা ভরা সোনালী শস্য আর খেজুর গাছে ঝুলানো ছোট কলস বা ভাঁড় পরিপূর্ন হয় রসে। গ্রাম বাংলা আমোদিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting