| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

বন্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম : ক্ষতিগ্রস্ত নানা শ্রেণীর মানুষ

আপডেটঃ 1:56 pm | November 28, 2015

ঢাকা প্রতিনিধি : ১০ দিন ধরে বন্ধ আছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারসহ প্রায় ১০টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ইস্যুটিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়ে বলা হচ্ছে, জঙ্গিরা এই ধরনের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করছে, যা নজরদারির মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটগুলো ব্যবহার করা না গেলেও প্রক্সি লিংক, বিভিন্ন সফটওয়্যার ও অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ কিছু ব্যবহারকারী বিকল্প মাধ্যমে সাইটগুলো ব্রাউজ করছেন। তাদের মতে, শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীরা না, অপরাধীরাও বিকল্প পথে এসব মাধ্যম ব্যবহার করছে। ফলে নিরাপত্তা ইস্যুটিকে মুখ্য হিসেবে বিবেচনা করলেও আদতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। এতে যে উদ্দেশ্য এই সাইটগুলো বন্ধ করা হয়, তা সফল হচ্ছে না।
এদিকে প্রবাসে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীরা পড়েছেন বিপাকে। অনলাইন বেচাকেনা কমে গেছে ৩০ শতাংশ। আর ভিজিট কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বায়ারদের সাথে যোগাযোগ হত এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা। অন্যদিকে যারা বিকল্প পথে এসব ব্যবহার করছেন তারাও আছেন ঝুঁকিতে। কারণ যেকোনো সময় হ্যাক হতে পারে তাদের আইডি। বিশেষ করে পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যেসব পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রায় এক কোটি সত্তর লক্ষ বাংলাদেশির নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩০ এর কোটায়।
নগরীর মেহেদীবাগের বাসিন্দা তন্নি একজন তরুণ উদ্যোক্তা। গত বছর জানুয়ারিতে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে নিজের একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে পণ্যের বিপণন শুরু করেন। প্রথম থেকে ভালো সাড়াও পান। কিন্তু এখন তার ব্যবসা প্রায় বন্ধ। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি ড্রেসের অর্ডার পেতেন। এখন একটিও পান না। ফলে ব্যবসা বন্ধ। তার মতো অন্য ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের অবস্থাও একই।
ই-কমার্স সাইট এসো ডটকমের স্বত্বাধিকারী দিদারুল আলম সানী বলেন, ফেসবুক বন্ধ হওয়ার কারণে আমরা পুরাতন গ্রাহক তো হারাচ্ছি, নতুন কোনো গ্রাহকও সৃষ্টি হচ্ছে না। গ্রাহকরা ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যোগাযোগ করতে পারছে না। এভাবে পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত মাধ্যমগুলো বন্ধ হওয়া ই-কমার্স ব্যবসার জন্য হুমকি স্বরূপ।
খালেদা বেগমের ছেলে তিন ছেলের সবাই কাতার প্রবাসী। দেশে ৩জি চালুর পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হত ভাইবার বা হোয়াটসঅ্যাপে। অল্প খরচে যোগাযোগ করতে পারতেন। তিনি বলেন, ছেলেরা থাকে হাজার কিলোমিটার দূরে। মোবাইল ফোনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের দেখতে পারতাম। কিন্তু ১০ দিন ধরে তাদের সঙ্গে আগের মতো যোগাযোগ করতে পারছি না।
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকায় গত এক সপ্তাহে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও মোবাইল অপারেটরদের গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসেবে, ফেসবুক বন্ধ হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২৩০-২৪০ জিবিপিএস (গিগা বাইট প্রতি সেকেন্ড)। চলতি সপ্তাহে তা ৩০ শতাংশ কমে ১৭০ জিবিপিএসে নেমে এসেছে। মোবাইল অপারেটররা বলছে, তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টেরাবাইট ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করেন গ্রাহকেরা। গত এক সপ্তাহে ডেটার ব্যবহার কমে ২০০ টেরাবাইটে নেমে এসেছে। শতকরা হিসেবে যা ৩০ শতাংশের বেশি। ১ হাজার ২৪ গিগাবাইটে এক টেরাবাইট হিসাব করা হয়। একইভাবে ১ হাজার ২৪ মেগাবাইটে এক গিগাবাইট ধরা হয়। ব্যবহারকারীরা সাধারণত মেগাবাইট বা গিগাবাইটের হিসেবে ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ কেনেন।
সরকারি হিসাবে দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫ কোটি ৪০ লাখ। এর ৯৬ শতাংশ বা ৫ কোটি ১৯ লাখ লোক মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। মোবাইল ইন্টারনেট দিয়ে ব্যবহারকারীরা মূলত ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোই বেশি ব্যবহার করেন। তাই এগুলো বন্ধ থাকার প্রভাব সরাসরি পড়েছে মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেট ডেটা ব্যবসায়।
গত ১৮ নভেম্বর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের দিন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, স্কাইপি, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ট্যাংগোসহ সব ধরনের সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দেয় সরকার। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে। এর আগে ৮ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি অর্থায়ন ও যোগাযোগ বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের ইঙ্গিত দেন। এরপর ১১ নভেম্বর সংসদে প্রধানমন্ত্রী সাময়িক সময়ের জন্য হলেও এসব বন্ধ রাখার কথা বলেন।
HostGator Web Hosting