| |

সর্বশেষঃ

ফেলানী হত্যার ৭ বছর, এখনো আশায় পরিবার

আপডেটঃ ১:২২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৭, ২০১৮

বিশেষ সংবাদদাতা : মৃত্যুর পরেও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তের কাঁটাতারে ৪ ঘন্টা ঝুলেছিল কিশোরী ফেলানী মৃতদেহ। সেই নির্মম হত্যাকান্ডের ৭ বছর পূর্ণ হলো আজ।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির ফেলানী হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি আজো। ন্যায়বিচারের আশায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দু’দফায় বেকুসর খালাস দেয় বিএসএফ’র বিশেষ আদালত।

সেদিন ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশের ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে সমালোচনার ঝড় তোলে। ফেলানী নিহত হয়েছিলেন ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে। সেসময় বিজিবির দাবির মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়।

ফেলানীর বাবা দুদফা বিএসএফ’র আদালতে স্বাক্ষী দিয়ে আসলেও ঐ বছর ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। রায় পুর্নবিবেচনার বিজিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পুনর্বিচারে আবারও অমিয় ঘোষ খালাস দেয় বিশেষ আদালত।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, আমার মেয়ে ফেলানীকে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু এখনও আমি আমার মেয়ে ফেলানী হত্যার বিচার পাইনি। আমি চাই আমার মেয়ে ফেলানীকে হত্যাকারী অমিয় ঘোষের যেন ফাঁসি হয়। তাহলে আমার ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু জানান, বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে কন্যা হত্যার ন্যায় বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের আইনজীবী অপর্নাভাট ও মানবাধিকার সংগঠন মাসুম’র সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রিট গ্রহন করে আগামী ১৮ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে।

ফেলানীর বাবা বলেন, ‘আমি আশা করছি এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার পাব। এখন ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি।

এ ব্যাপারে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরুর আইন সহায়তাকারী কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরুর দুটি রিট গ্রহণ করে একাধিকবার শুনানীর দিন পিছালেও আগামী ১৮ জানুয়ারি শুনানীর দিন ধার্য্য করেছে। আমরা আশা করতেই পারি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ফেলানী হত্যা মামলায় একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিবে, যেটা উভয় রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলকর হবে।’

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting