| |

Ad

সর্বশেষঃ

রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আক্রমণের কারণ জানতে গবেষণার আহ্বান প্রণবের

আপডেটঃ ৭:০৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক নেতারা কেন বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন সে বিষয়ে গবেষণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

বাংলাদেশ সফরের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান দেয়া হয় প্রণবকে। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত পাওয়া প্রণব অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ হত্যার শিকার নেতাদের কথাও স্মরণ করেন।

প্রণব বলেন, ‘এ উপমহাদেশে যাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল সে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর কেন বারবার হিংসাত্মক আক্রমণ হয়েছে তা জানতে হবে।’

‘মানুষ ভোট দিয়ে নিজের পছন্দমত নেতৃত্ব বেছে নেবে, এই অধিকার আজ সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত। কিন্তু এই অধিকারের ওপর বারবার কেন আঘাতে আসছে? কেন সাংবিধানিক গণতন্ত্র বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে?’

বাংলাদেশ ছাড়াও ১৯৫৯ সালে শ্রীলঙ্কার সলোমন বন্দরনায়েক, ১৯৪৮ সালে ভারতে মহাত্মা গান্ধী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক, জুলফিকার আলী ভুট্টোর ফাঁসি ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানাসিঙ্গে প্রেমাদাসা নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন প্রণব।

বাংলাদেশে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রণব বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নজির নেই। এ বিপুল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কারণ কী, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে তা আমাদের জানতে হবে।’

বাংলাদেশ এবং ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গণতন্ত্রের কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন প্রণব। বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষ সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আর্থিক, সামাজিক প্রগতি বাস্তবায়ন করেছে। অথচ এ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বেশি হিংসাত্মক আক্রমণ হয়েছ, কারণ কী?’

উপমহাদেশে ভারত ছাড়া অন্য দেশগুলোতে কেন বারবার সামরিক শাসক এসেছে, সে প্রশ্নও রাখেন ভারতের সাবেক বাঙালি রাষ্ট্রপতি।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রণবের হাতে ডি-লিট ডিগ্রির স্মারক তুলে দেন উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

প্রণব এ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হিসেবে মনে করার কথা জানান।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছান প্রণব। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান শেষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মস্থান রাউজানে যান তিনি।

এর পর রাউজান কলেজের কাছে মুন্সির ঘাটা এলাকায় সূর্যসেনের ভাস্কর্যে সম্মান জানান প্রণব মুখার্জি।

পাঁচদিনের সফরে রবিবার ঢাকায় পৌঁছান প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রণব যেমন প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশ এসেছিলেন, তেমনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পরও তিনি প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রতি প্রণবের ভালোবাসা নতুন নয়। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে ভারতের সমর্থন দানের বিষয়ে ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ভারতের রাজ্যসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন প্রণব। স্বাধীনতার পরও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা।

ভারতের রাজনীতিক প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের জামাতাও। তার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির বাড়ি নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে। ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফরে এসে শ্বশুর বাড়ি ঘুরে গেছেন প্রণব। শুভ্রা অবশ্য আর বেঁচে নেই। ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ভারতের আর্মি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

আরোও পড়ুন...