| |

Ad

সর্বশেষঃ

শেরপুরে জার্মান স্বেচ্ছাসেবকদের সাইকেল ভ্রমণ

আপডেটঃ ৫:১৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ০২, ২০১৮

শেরপুর প্রতিনিধি : ‘আমাদের একটাই পৃথিবী, একে সবুজ রাখি, রক্ষা করি’স্লোগানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষায় বাইসাইকেল ভ্রমণে বের হয়েছে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল স্বেচ্ছাসেবক। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আট দিনে ৩৫০ কিলোমিটার সাইকেল ভ্রমণে বের হওয়া ১৩ সদস্যের ওই জার্মান দলটি ১০৮ কিলোমিটার ভ্রমণ শেষে ১ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর কালেক্টরেটে পৌঁছে।

এ সময় তারা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ রজনীগন্ধ্যায় ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষা’ বিষয়ক এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট চেঞ্জ নেটওয়ার্ক অব গ্রেটার ময়মনসিংহ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাটি ও ক্যাপ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নকলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মাটির নির্বাহী পরিচালক জার্মান প্রবাসী প্রকৌশলী লেনিন রহমান।

মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, মানুষের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ বাড়ছে। এতে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে, আর গরম হচ্ছে পৃথিবী। বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমুদ্রের কার্বন ধারণ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত গাড়ি চালনায় প্রতিলিটারে ২ কেজি, ২০০০ ওয়াটের একটি এসিতে ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ কেজি, প্রতিদিন গড়ে ৫টি পলিথিনের ব্যবহারে এক কেজি, দিনে ১০০ ওয়াটের ১টি বাতি ২৪ ঘন্টা জ্বালালে প্রায় ৪ কেজি কার্বন-ডাই অক্সাইড উৎপাদিত হয়। এজন্য প্রাইভেট গাড়ি, এসি চালনা, প্লাস্টিক এবং আধুনিক আবর্জনা কম তৈরি করা এবং বিদ্যুৎ-পানি কম ব্যবহার করার তাগিদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সেমিনারে জার্মান স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিজ ইরানজিসকা ইউটিং তার দেশের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, জার্মানিতে এখন ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে বাইসাইকেল চালানোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। জলবায়ুর পরিবর্তিত প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের অভ্যাস ও আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের পৃথিবী আমারাই রক্ষা করবো এমন স্লোগান তুলতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, উন্নত বিশ্বই প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি কার্বন ছড়াচ্ছে, আর এর শিকার হতে হচ্ছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। শুধু অভিযোজনের কথা বললে হবে না জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বেশ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও এদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি এসময় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি এবং বেসরকারি নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, ছাত্র-শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

জার্মান স্বেচ্ছাসেবক দলটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে তাদের সাইকেল যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টারে ‘জলবায়ু কুইজ’ নামে জনসচেতনতামুলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।

আরোও পড়ুন...