| |

Ad

সর্বশেষঃ

শেরপুর সীমান্তে খাবার পানির সংকট চরমে

আপডেটঃ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ১০, ২০১৮

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চলছে পানির তীব্র সংকট। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে গেছে এখানকার অধিকাংশ খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয়। পানি শূন্য হয়ে পড়েছে টিউবওয়েলগুলো। জীবন বাঁচাতে গ্রামবাসীরা ছুটছে দূর-দূরান্তের নদী-নালা, খাল-বিলো। সেখানকার পানিও খাওয়ার উপযোগী নয়। দূষিত পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামবাসী।

গ্রামাবাসীরা বলছেন, দীর্ঘ ৮-১০ বছর থেকে পানির স্তর নিচে নেমে যেতে থাকে। এখানকার অগভীর নলকূপগুলি থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দরিদ্র, অসহায় মানুষদের গভীর নলকূপ বসানোরও ক্ষমতা নেই। সরকারিভাবে এ অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রায় অর্ধশত গ্রামের কয়েকশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৫টি ইউনিয়নের সিংহভাগ বাড়িতে চলছে পানির সংকট। এখানকার তাওয়াকুচা, পানবর, ডেফলাই, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, ফুলহাড়ি, বাকাকুড়া, হালচাটি, নওকুচি এবং নলকুড়া, ফাকরাবাদ, রাংটিয়া ও গৌরিপুর গ্রামে চলছে পানির হাহাকার।

গজনী গ্রামের বাসিন্দা সুবল বলেন, প্রত্যেক শুকনো মৌসুমে আমাদের পানির কষ্ট করতে হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির কাছে আমাদের সমস্যার কথা দীর্ঘদিন ধরে জানালেও কোন কাজ হয়নি। তার এমন অভিযোগ স্বীকার করলেন স্থানীয় কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক। তিনি বলেন, পাহাড়ি গ্রামবাসী অনেক দিন ধরেই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। সরকারি উদ্যোগে এসব এলাকায় সেমি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হলে পানির সংকট কমবে।

উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান নবেশ খকশি বলেন, উপজেলার আদিবাসী-অধ্যুষিত পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাংশা, নলকুড়া, ধানশাইল, গৌরীপুর ও ঝিনাইগাতী ইউনিয়নে এ সংকট মারাত্মক হয়ে উঠছে। পানির সংকট নিরসনে সরকারি কোন উদ্যোগ নেই।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরউজ্জামান বিশুদ্ধ পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, পানির সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি উদ্যোগে ১২টি গভীর তারা নলকূপের বরাদ্দ এসেছে। তালিকা পেলেই খুব শিগগির নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

এখানকার পানির সংকট নিরসের জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নলকূপ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা।

আরোও পড়ুন...