| |

সর্বশেষঃ

নাট্যাঙ্গনে মহড়া কক্ষের সঙ্কট

আপডেটঃ ১:৪৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৯, ২০১৫

বিশেষ সংবাদদাতা : রাজধানী ঢাকায় ৫০টিরও বেশী নাট্য সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই দলগুলোর জন্য নেই তেমন মহড়া কক্ষ। জাতীয় নাট্যশালায় রয়েছে মাত্র ৪টি মহড়া কক্ষ। ফলে নাট্যদলগুলোকে অপেক্ষায় থাকতে হয় মহড়া কক্ষ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য। মহড়া কক্ষের সঙ্কট নাট্যচর্চার বিকাশে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন অনেক নাট্যকর্মী।

নাট্যাঙ্গনে মহড়া কক্ষের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নাট্যকর্মীর হাতে নতুন রূপে সূচনা হয় বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের। বেইলী রোডের মহিলা সমিতির জরাজীর্ণ মঞ্চটিই তখন হয়ে ওঠে নাটক প্রদর্শনীর প্রধান কেন্দ্রস্থল। মহিলা সমিতিকে ঘিরে বেইলী রোড হয়ে ওঠে নাট্যকর্মী ও দর্শকের মিলনস্থল। মহিলা সমিতি থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে নাটক। গড়ে ওঠে শক্তিশালী নাট্য আন্দোলন। তখন থেকেই দেখা দেয় মহড়া কক্ষের সঙ্কট।

বিকল্প হিসেবে নাট্যদলগুলো বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ক্লাসরুমগুলোকে ব্যবহার করতে থাকে মহড়া কক্ষ হিসেবে। গেল দশকেও রাজধানীর ইস্কাটন স্কুলে প্রায় ১০টি নাট্যদল নিয়মিত নাটকের মহড়া করত। কিন্তু স্থানীয় এক প্রভাবশালীর অভিযোগের কারণে সেই স্কুলে নাটকের মহড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশীরভাগ স্কুল-কলেজের ক্লাসরুম এখন আর নাটকের মহড়ার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।

২০০১ সালে সেগুনবাগিচায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে অত্যাধুনিক জাতীয় নাট্যশালা। এই নাট্যশালায় রয়েছে চারটি মহড়া কক্ষ। কিন্তু অর্ধশতাধিক নাট্যদলের প্রায় ৩ হাজার নাট্যকর্মীর জন্য এই চারটি মহড়া কক্ষ খুবই অপ্রতুল।

নাট্যকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশের নাটক এখন আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সেখানে মহড়া কক্ষের সঙ্কট চলমান নাট্য অভিযাত্রায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

সুতরাং সঙ্গত কারণেই মহড়া কক্ষ বাড়ানোর দাবি তুলছেন নাট্যকর্মীরা, সেটা সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হোক। একই সঙ্গে নাট্যাঙ্গনের মহড়া কক্ষ সঙ্কটের বিষয়টি নিয়ে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এর একটা সমাধান বের করবে- এমন প্রত্যাশা অধিকাংশ নাট্যকর্মীর।

থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও নাট্য নির্দেশক মোহাম্মদ বারী দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমীতে যদি আরও নতুন মহড়া কক্ষ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে খুবই ভাল হয়। আর যদি সেটা না করা যায়, তবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ব্যবহার করার অনুমতি যেন দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সরকারের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলে দিতে পারে।’

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকায় যে সংখ্যক নাট্যদল রয়েছে তাদের মহড়ার জন্য জাতীয় নাট্যশালায় মাত্র চারটি মহড়া কক্ষ খুবই কম। আমরা বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। ভাল হয়, সরকার যদি মহড়ার জন্য আলাদাভাবে একটা ভবন নির্মাণ করে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত মহড়া কক্ষ থাকবে। শিল্পকলায় সম্ভব না হলে অন্য কোথাও সেটা করা যেতে পারে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজগুলোতে যদি সন্ধ্যার পর মহড়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে মহড়া কক্ষের সঙ্কট সাময়িকভাবে দূর হতে পারে।’

একই প্রসঙ্গে একটু ভিন্ন রকম কথা বলেছেন তরুণ নাট্য নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশটা অন্যরকম, তাই শিল্পকলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি আমরা। তবে নাটকের দলগুলোকে মহড়া কক্ষের জন্য স্থান করে দেওয়াটা কিন্তু শিল্পকলা একাডেমীর দায়িত্ব নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব মহড়ার ব্যবস্থাটা নিজে করে নেওয়া। এটা স্থানীয় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতে পারে। আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিল্পী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরা কিংবা মিরপুর থেকে শিল্পকলায় এসে মহড়া করে আবার ফিরে যাওয়াটা কিন্তু নাট্যকর্মীদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। স্থানীয় স্কুল-কলেজে মহড়ার ব্যবস্থা করা হলে হেঁটেই সেখানকার নাট্যকর্মীরা মহড়ায় অংশ নিতে পারবে। এতে করে নতুন আরও অনেকেই নাটকের চর্চা করার অনুপ্রেরণা পাবে।’

শিল্পকলার মহড়া কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে জন্মদিন পালনে

মহড়া কক্ষ সঙ্কট নিয়ে নাট্যকর্মীরা যেখানে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানে কোনো কোনো নাট্য সংগঠন শিল্পকলার মহড়া কক্ষগুলো ব্যবহার করছে তাদের অগ্রজ নাট্যকর্মীদের জন্মদিন অনুষ্ঠান আয়োজনে। কোনো অগ্রজ নাট্যকর্মীর জন্মদিন পালন নিয়ে কারও কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি শুধু স্থান নির্বাচনে।

কারও কারও মতে, মহড়া কক্ষের সমস্যা যেখানে তীব্র সেখানে থিয়েটার ক্লাব কিংবা চিলেকোঠার আঙিনায় অথবা হেঁসেলে বা অন্য কোথাও জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ভাবা যেতে পারে। এ কারণে শিল্পকলার মহড়া কক্ষে জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে কোনো কোনো নাট্য সংগঠন।

নাট্য নির্দেশক জসিম উদ্দিন ১৭ নভেম্বর এ বিষয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘থিয়েটার ক্লাবে নাট্যকর্মীদের জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হোক। না, আমি কোনো রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য বলিনি। দয়া করে সমস্যাটা অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। যেখানে মহড়া কক্ষের সমস্যা তীব্র সেখানে থিয়েটার ক্লাব কিংবা চিলেকোঠার আঙিনায় অথবা হেঁসেলে বা অন্য কোথাও জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ভাবা যেতে পারে।’

এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় আরেক নাট্য নির্দেশক সাইফ সুমন লিখেছেন, ‘এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।’

এ ছাড়া আরও অনেক নাট্যকর্মীই জসিম উদ্দিনের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন নাট্যশালার মহড়া কক্ষে জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করে অন্য কোথাও করার জন্য।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting