| |

Ad

সর্বশেষঃ

মধ্যম আয়ের দেশ

আপডেটঃ ৪:২৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ২০, ২০১৮

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার তালিকায় স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশকে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নাম ছিল বাংলাদেশের। তবে গত কয়েক বছর ধরে বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনায় সেই জগদ্দল বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই অর্জন ও উন্নয়ন জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ দাতা দেশ ও গোষ্ঠীর অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক- এই তিন শর্ত পূরণ করেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে মাথাপিছু আয় হয়েছে ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ পয়েন্ট। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ৩২ ভাগের কম থাকলেও বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৪ ভাগ। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যা পূরণ করতে হবে ২০২৪ সালের মধ্যে। এর মধ্যে অন্যতম মানুষের আয় বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) ৪১তম পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন ইতালির রোমে। সেখানে মূল বক্তা হিসেবে তিনি দেশের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। দারিদ্র্য বিমোচন তথা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য শুধু শহর-নগর নয়; বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক। বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করাও সম্ভব নয়। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের আমলে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় দুস্থ ও অভাবগ্রস্ত এলাকায় বহুকথিত ‘মঙ্গা’ দূর করা সম্ভব হয়েছে। দেশে প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৪ সালের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন ফোরামের ২০১৮ সালের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথাসময়ে অর্থছাড়সহ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন, যা হবে জাতিসংঘ নির্দেশিত এসডিজি অর্জনে সহায়ক।

সরকার ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সর্বাগ্রে মনোনিবেশ করে খাদ্য উৎপাদনে। পরিকল্পিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুত উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বাংলাদেশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পে দেশের সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। আয়ও অসামান্য। এ খাতে কয়েক লাখ নারীর কর্মসৃজন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বে। প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচীসহ নারী এবং শিশু মৃত্যুর হার প্রতিরোধেও বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসনীয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ৭.৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ অতিক্রম করা।

সেটা অতিক্রম করতে হলে ইউএনডিপি উল্লেখিত ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। অদক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরন করতে হবে দক্ষ জনশক্তিতে। জোর দিতে হবে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর। বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জোর দিতে হবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর। ভারি ও বহুমুখী শিল্পায়ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক-বীমাসহ কারিগরি উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে দেশেই। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি বর্তমান সময়ের দাবি। পরিহার করতে হবে ধর্মীয় কূপম-ূকতা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন এবং তা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। সেক্ষেত্রে এই দিকটির দিকেও নজর দিতে হবে সরকারকে। শহর-নগর-বন্দরের পাশাপাশি সমান সুযোগ ও মনোনিবেশ করতে হবে দারিদ্র্য বিমোচনসহ গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে। তাতে করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুফল প্রায় সবাই উপভোগ করতে সক্ষম হবে।

আরোও পড়ুন...