| |

সর্বশেষঃ

সোনার বাংলা গড়তে হলে নৌকায় ভোট দিন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১১:১৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৯, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নৌকায় ভোট দেয়ার দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দেন, আপনাদের সোনার বাংলাদেশ উপহার দেবো।’
শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলের বড় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন চায় আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ ধ্বংস হওয়া, সন্ত্রাস, দুর্নীতি লুটপাট করা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মানুষ শান্তিতে খেয়ে-পড়ে বসবাস করবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেওয়া। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।
সরকার প্রধান বলেন, সেই জন্যই আমার আপনাদের কাছে আবেদন থাকবে- আমরা যেহেতু ২০০৮-এর সরকারের এসেছি, ২০১৪তে পুনরায় সরকারে এসেছি- সরকারের ধারবাহিকতা রয়েছে বলেই আজকে উন্নয়নের ছোঁয়া প্রতিটি এলাকায়- গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। কারণ, নৌকা মার্কাই দেবে উন্নতি, নৌকা মার্কাই দেবে আপনাদের শান্তি, নৌকা মার্কাই করবে আপনাদের জীবনমান উন্নত।’
তিনি বলেন, আপনারা গত নির্বাচনে এখানকার তিনটি আসনেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন- আগামীতে ২০১৮’র ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর অন্যান্য প্রাক নির্বাচনী জনসভার মতে নৌকায় ভোট দানের জন্য জনগণের ওয়াদা প্রত্যাশা করলে উপস্থিত জনতা সমস্বরে চিৎকার করে এবং দুহাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নৌকায় ভোটদানে প্রতিশ্রতিবদ্ধ হন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ সেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এম এম মোজাম্মেল এবং নুরুল ইসলাম সুজন জনসভায় বক্তৃতা করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম এমপি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেল অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলের পাশে থাকা বেদী থেকে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ দিনের বিশাল জনসভায় আগতদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে চিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমি গিয়েছি। আমি হেঁটেছি, নৌকায় চড়েছি, ট্রেনে যাতায়াত করেছি। তিনি বলেন, আমি ভালো করে জানি দেশের কোথায় কোন সমস্যা। তাই আমাকে কোথায় কি লাগবে তা বলতে হয় না।
তিনি বলেন, তিনি জাতির পিতার কাছেই শুনেছেন কিভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে।
দেশের উন্নয়নের চাইতে বিএনপি লুটপাটেই ব্যস্ত ছিলো উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকা পাচার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এবং সিঙ্গাপুরের ফেডারেল কোর্টে প্রমাণিত হওয়ার পর সেই টাকা তাঁর সরকার দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
তবে, জিয়া পরিবার ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ৯৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে যে টাকা এখনো ফেরত দেয় নাই মর্মেও প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ শুধু লাশ উপহার পায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে বিএনপি’র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার, প্রায় ৩ হাজার লোককে অগ্নিদগ্ধ করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৭ জন সদস্যসহ প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং বিদ্যুতের প্রকৌশলীকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুনে পুড়িয়ে হত্যারও তীব্র সমালোচনা করেন।
বিএনপি সরকারের সময়ে সারের দাবিতে আন্দোলনরত ১৮ জন কৃষক হত্যার প্রসঙ্গও প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় উঠে আসে।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশ থেকে এতিমের জন্য আনা টাকা মেরে খেয়েছেন তিনি। যে এতিমের টাকা মেরে জেলে গেছে তার জন্য আবার আন্দোলন কিসের।
এতিমের হক না দিলে তার জন্য পবিত্র কোরআনে শাস্তির বিধান থাকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সারাক্ষণ মিথ্যা কথা বলেন। মিথ্যা বলতে বলতে তার মুখ ব্যথা হয়ে গেছে। এতো মিথ্যা কথা তিনি কিভাবে বলেন, ভেবে পাই না। মিথ্যা কথা বললে আল্লাহতায়ালাও নারাজ হন।’


বিমান প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মির্জা ফখরুল বিমানকে ধ্বংস করে গেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আমলে ৮টি নতুন বিমান কেনা থেকে বিএনপি আমলে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরগুলো চালুতেও তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী এদিন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি পার্ক, খাদ্য প্রক্রিয়াজতকরণ অঞ্চল ও ইপিজেড স্থাপনের আশ্বাস দেন।একই সঙ্গে আন্তঃনগর ট্রেন চালু, ভূল্লি থানাসহ সব উপজেলায় একটি করে স্কুল সরকারি করার আশ্বাস, বিদ্যমান স্কুল-কলেজগুলো সংস্কারসহ ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য আরো বেশকিছু উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল-কলেজের যা যা কিছু দরকার করা হবে, তারপরেও যেসব কলেজে একাডেমিক ভবন নাই সেগুলো আমরা করে দেবো এবং প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল বা কলেজ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হয় সেই ব্যবস্থাও করা হবে।

ঠাকুরগাঁওকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই এখানে কর্মসংস্থানের জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল যাতে গড়ে ওঠে সেই ব্যবস্থা এবং স্পেশাল ইকোনমিক জোন করা হবে। ভুল্লি থানা করা হবে এবং ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈইল, হরিপুর- এই পাকা রাস্তা যাতে প্রশস্ত হয় তার ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দেয়ায় আজকে গ্রামে-গঞ্জে নিজ ঘরে বসে ছেলে-মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ডিজিটল সেন্টার করেছি সেখানে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে তেমনি সেখানে ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ নামেও আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।
ঠাকুরগাঁওয়ে যাতে একটি আইটি পার্ক হয় তার ব্যবস্থা এবং কর্মজীবী মহিলাদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থাও তাঁর সরকার করবে, বলেন তিনি।
সরকার প্রধান বলেন, এই ঠাকুরগাঁও পৌরসভার যত ড্রেন-রাস্তা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ যাতে বিশুদ্ধ খাবার পানি পেতে পারে সে জন্য ওভারহেড ট্যাংক- সেগুলোও তাঁর সরকার করে দেবে।
সেই সাথে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে সুরম্য মনজিদ এবং ইসলামিক কালচারাল সেন্টারও করবে তাঁর সরকার উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে বলেন, ইসলাম ধর্মের নামে কেই কোন সন্ত্রাসি কর্মকান্ড করুক, আমরা তা চাই না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমি এই সভায় প্রত্যেক অভিভাবক বাবা-মা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং যারা ধর্মীয় শিক্ষক রয়েছেন- তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা আপনাদের ছেলে-মেয়ে কোথায় যায়, কি করে কার সঙ্গে মেশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস করে কি-না- সে বিষয়ে আপনাদের খবর রাখতে হবে। আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে ছেলে-মেয়েরা যাতে বিপথে না যায়। সন্ত্রাস ,জঙ্গিবাদ এবং মাদকের সঙ্গে যেন জড়িত না হয়ে পড়ে।
এ জন্য পুত্র, পোষ্যদের আদর করে কাছে টেনে নিয়ে তাদের মনের ভাব জানার জন্যও প্রধানমন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান।


আজকের প্রজন্মই আগামীতে দেশ পরিচালনা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মাদক, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থেকে আগামীর বাংলাদেশকে একটি শান্তি ও উন্নয়নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমরা চাই।
খালেদা জিয়া রেল বন্ধের প্রচেষ্টা নেওয়ার পরে তাঁর সরকার আবার নতুন করে রেলকে ঢেলো সাজিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেললইন এবং রেলের যোগাযোগ যাতে উন্নত হয় এবং ঠাকুরগাঁও থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয় তার ব্যবস্থাও সরকার করবে।

জনগণ যাতে অল্প পয়সায় যাতায়াত এবং মামলামাল পরিবহনের সুবিধা পায় সে জন্য তাঁর সরকার সারাদেশে রেলের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, নদীগুলোও ড্রেজিং করা হচ্ছে, নৌপথও যাতে ব্যবহার করা যায় তার ব্যবস্থা আমরা করবো, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পিতা-মাতা, ভাই নিকট স্বজনদের হারিয়ে শুধু জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর রাজনীতির উদ্দেশ্য উল্লেখ করে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর জীবন থেকে বহু বছর ঝড়ে গেলেও এই মার্চ মাসেই আমরা উন্নয়নের একট ধাপ অতিক্রম করেছি। যে মাসে জাতির পিতা শেখ মুজিবের জন্ম হয়েছিল সেই মাসেই আমরা স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে কাতারে উন্নীত হতে পেরেছি।
তিনি এ সময় ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলায় তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting