| |

Ad

সর্বশেষঃ

মাধ্যমিক ও সমমানের ফল প্রকাশ

আপডেটঃ ১:৪৬ অপরাহ্ণ | মে ০৮, ২০১৮

প্রকাশিত হয়েছে দেশের ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১০ বোর্ডের চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল। ২০১৭ সালের তুলনায় এবার পাসের হার ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এই হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০১৭ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্ত্মান্ত্মর করেন। গত কয়েক বছরের মতো এবারও ফলাফলে এগিয়ে আছে ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ; আর ছাত্রদের ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে। ৫৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রীর বিপরীতে ৫৫ হাজার ৭০১ জন ছাত্র এবার পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে। এ ছাড়া মোট ২৮ হাজার ৫৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবার ১ হাজার ৫৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এ বছর। আমরা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।
অস্বীকার করা যাবে না যে, আমাদের প্রাথমিক স্ত্মর থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকপর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে শিক্ষাপঞ্জি। একই দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হচ্ছে নতুন বই। বছরের শুরু তে নতুন বই প্রাপ্তি ও শিক্ষাপঞ্জি শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন পাঠের আগ্রহ বেড়েছে, তেমনি বৃত্তি-উপবৃত্তি সন্ত্মানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে অভিভাবকদেরও আগ্রহী করেছে। কমেছে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আমরা দেখতে পাই নানা সমস্যা ও নেতিবাচকতার মধ্যেও শিক্ষায় সাফল্য এসেছে। একটা সময় ছিল যখন পরীক্ষায় নকলের উৎসব চলত। এখন আর সে অবস্থা নেই। মুখস্থ বিদ্যা অনেকটাই উঠে গেছে। এরপরও দুঃখজনক বাস্ত্মবতা হলো, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসিতে অধিকাংশ বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার সকালে ফাঁস হয়। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে হলে বসা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নানাভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেও এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিষয়টি পরিতাপের জন্ম দেয়।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। ফল প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ আমরা তখনই গড়তে পারব যখন দেশের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত হবে। শিক্ষা এমন একটা জিনিস যেটা কখনো কেউ কেড়ে নিতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত্ম যৌক্তিক। তবে কেবল পরিমাণগত বা সংখ্যা বৃদ্ধিই শিক্ষার মানোন্নয়নের স্মারক নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন দেশের জন্য অত্যন্ত্ম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আজকের দিনে বৈশ্বিক বিবেচনায় উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার মান আন্ত্মর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশে উপযুক্ত শিক্ষাবিদ আছেন। তাদের সহযোগিতা নিয়ে শুধু পরিমাণ বৃদ্ধি নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করা কঠিন হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নৈতিকতা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের নানা নেতিবাচক কর্মকা-ও দূরীভূত হবে- এমন প্রত্যাশা দোষের নয়।
সর্বোপরি বলতে চাই, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোতে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামি দিনের ভবিষ্যৎ। দেশের সেই ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলার দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের মান হতে হবে প্রশ্নাতীত। এর জন্য সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। নতুন প্রজন্মের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আগামি দিনের দুর্নীতিমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ রচিত হোক- এমনটি প্রত্যাশা।

আরোও পড়ুন...