| |

Ad

সর্বশেষঃ

বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর অনেক সড়ক

আপডেটঃ ২:১৫ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার আকাশ সোমবার সকালে হঠাৎ ছেয়ে যায় কালো মেঘে। নামে রাতের অন্ধকার। এসময় আকাশে শোনা যায় মেঘের মুহুর্মুহু গর্জন। তারপর নামে বৃষ্টি। এদিকে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে নাগরিকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি ও জলজটের কারণে অফিসগামী মানুষ পড়েন বেশ বিপদে। রাস্তায় পরিবহন সংকটও দেখা যায় বেশ।

আবহাওয়াবিদ নিঝুম রোকেয়া আহমেদের সঙ্গে কথা হয় বৃষ্টিপাত নিয়ে। তিনি জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শুধু রাজধানী নয় সারাদিনই থেমে থেমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হবে। এছাড়া কোথাও কোথাও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। যা আগামী ৪-৫ দিন অব্যাহত থাকবে।

সকালে ঢাকায় বাতাসের গতি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। এছাড়া অস্থায়ী দমকা হাওয়া ছিল ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।

বৃষ্টিতে শহরের ব্যস্ততম সড়ক মিরপুর, আজিমপুর বাস স্ট্যান্ড, কলাবাগানের ভুতের গলি, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় কোমর পানিও দেখা যায়। বৃষ্টি কমলেও শহরবাসীকে জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেশির ভাগ সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। ফলে ড্রেনেজ পাইপের মুখে ময়লা-আবর্জনা ও মাটি ও ইট সুরকি জমে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পারায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, শহরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল। ড্রেনগুলো সময়মত পরিষ্কার না করা ও রাস্তাঘাট ঠিক না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের সড়কগুলো পানিতে সয়লাব হয়।

কলাবাগানের ভুতের গলিতে হাঁটুপানিতে রিকশা ঠেলে যাচ্ছিলেন রিকশাচালক আবদুল বারিক। তিনি বলেন, ‘সকাল থ্যাকে ঝড়ি হচ্ছে। দিনের কামাই সব শ্যাষ। শহরের পথঘাট ডুবে গেছে। রাস্তায় রিকশা চলাবার পারছি না’।

এ এলাকার দোকানি কামরুল জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় হাঁটু পানি হয়ে যায়। আর টানা বৃষ্টি হলে হয় কোমার পানি। প্রতি বছরতো কাজ করে, কি করে বুঝি না। দোকানে পানি ঢুকেছে। অনেক মাল পানিতে ডুবে গেছে।

এদিকে মিরপুর এলাকায় মেট্রো রেলের কাজ হচ্ছে। বৃষ্টিতে জলজটের কারণে মেট্রো রেলের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, পাশাপাশি রাস্তায় জমা বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় পুরো এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। ফলে যানবাহন আটকে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পাশাপাশি পানি জমে থাকায় ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা যায় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ এবং বিক্ষিপ্ত ভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অনেক জায়গায় ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমবে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

আবহাওয়া সিনপটিকে দেখা যায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিম বঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আরোও পড়ুন...