| |

সর্বশেষঃ

বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয়, আশঙ্কায় চাষিরা

আপডেটঃ ২:৩০ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০১৮

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে সদর উপজেলার ১৫টি গ্রামের চারপাশের বাগান, বাড়ির আঙিনা, উঠানে ঝুলছে লাল টসটসে রসালো লিচু। গ্রামগুলো এখন লিচু গ্রাম নামে পরিচিত। অধিক লাভজনক হওয়ায় ধানের বদলে লিচু চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।

এবার বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন বির্পযয় এবং রমজানে বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জামালপুরের লিচু চাষিরা।

এ বছর ফলন বির্পযয়ে লোকসানের আশঙ্কা করছেন লিচু বাগান মালিকরা। এখন ভোর থেকে লিচু পাড়া, বাছাই করা, গুণে গুণে আঁটি বাঁধা, বাজারজাতের জন্য খাঁচাবোঝাই করার মধ্য দিয়ে লিচু শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, লিচু চাষের জন্য সদর উপজেলার মাটি খুবই উর্বর। শ্রীরামপুর, রঘুনাথপুর, গোদাশিমলা, বেড়াপাথালিয়া, শিতলকুর্ষা, ঢেংঘারঘর ও রনরামপুরসহ ১৫টি গ্রামে এবার ২৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। এখানে মঙ্গলবাড়িয়া, বোম্বাই, মোজাফফরপুরী, চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষ হয়।

বাগানিরা জানান, লিচু গাছে প্রচুর ফুল আসায় এবার বাম্পার ফলনের আশায় লিচু চাষিদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছিল খুশির ঝিলিক। বাদ সাধে বৈরী আবহাওয়া। কুয়াশায় আক্রান্ত হয়ে ঝড়ে যায় গাছের ফুল। লিচু কিছুটা বড় হলে শিলা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়। ফলে লিচুর ফলন এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে।

লিচু নামার শুরুতেই রমজান মাস শুরু হওয়ায় আশানুরূপ বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাগানিরা জানালেন সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের লিচু চাষি মামুন ফকির।

তিনি এমএ পাস করে চাকরির পিছু না ঘুরে ৫ বিঘা জমিতে ৭টি লিচুর বাগান করেছেন।

গত বছর বাগান থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। এবার ফলন বিপর্যয়ের কারণে গতবারের অর্ধেক টাকা আয় করতে পারবেন কিনা শঙ্কা প্রকাশ করেন এই লিচু বাগানি।

আব্দুল জলিল, আব্দুল কাদির, সালাম, মোতালেবসহ অনেক লিচু চাষিও একই কথা বললেন।

এদিকে এ অঞ্চলের লিচু চাষিদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের শতভাগ সহযোগিতা না পেয়ে পুরনো পদ্ধতিতে লিচু চাষ করেছেন তারা।

কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে আধুনিক পদ্ধতিতে লিচু চাষ করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা ও লাভের মুখ দেখতেন বলে চাষিদের ধারণা।

ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, রমজানের আগে বাজারে লিচু নামলে বেচাবিক্রি বেশি হতো। রমজান মাস থাকায় তুলনামূলক লিচু কম বিক্রি হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের কর্মীরা চাষিদের পরামর্শ দেন দাবি করে জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন গতবারের চেয়ে কম হয়েছে। কুয়াশার আক্রান্তের সময় পানি স্প্রে করলে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হতো না। আবহাওয়া ভালো থাকলে গাছে লিচু মাসখানেক টিকতে পারে। তাহলে লিচু চাষিরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting