| |

Ad

সর্বশেষঃ

নৌকাই ভরসা ৩০ গ্রামের মানুষের

আপডেটঃ ২:৩৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩১, ২০১৮

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা ঘোষগাঁও ইউনিয়নের নিতাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় অনেকটাই আবদ্ধ থাকতে হয় ৩০ গ্রামের মানুষকে। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকাই তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের।

জানা যায়, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে এসে সীমান্ত উপজেলার ধোবউড়ার ঘোষগাঁও বাজারের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত নিতাই নদী। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নদীটি ঘোষগাঁও এলাকায় প্রায় ৯০ মিটার প্রশস্ত। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে ঘোষগাঁও ও কলসিন্দুর বাজার। শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে এলে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হয় স্থানীয় লোকজনের।

তবে বর্ষা মৌসুমে ভরা নদীতে বাঁশের সাঁকো অকার্যকর হয়ে পড়ে। তখন ৩০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয় ডিঙ্গি নৌকা। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সবাইকে শঙ্কিত হয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। অনেক সময়ই নৌকা ডুবে কিংবা শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো ভেঙে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষা মৌসুমে নৌকাডুবিতে ঘটছে হতাহতের ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, ঘোষগাঁও ও দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী, কড়ইগরা, রামসিংহপুর, কাশিপুর, বাগপাড়া, ঘিলাগড়া, ছোট মুন্সীপাড়া, রানীপুর, বল্লবপুর, নয়াপাড়া, ঘোষগাঁও ভালুকা পাড়াসহ ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও শত শত শির্ক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। নদীর পাড় ঘেঁষেই কালিকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর ওপর সেতু না থাকায় বর্ষায় নদীটি ৩০ গ্রামের মানুষের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অনেক কষ্ট করে নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।’
নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজছাত্র তারিকুল ইসলাম জানান, ‘নিতাই নদীর ওপর সেতু হলে এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন হতো। সেতু না থাকায় এলাকার মানুষ শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।’
এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহনূর ফেরদৌস জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর পর অনুমোদন হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি যৌথ টিম এসে পরিদর্শন করে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন আশ্বাসের কথা তারা বার বার শুনে থাকেন। কেউ কেউ বলছেন, আগামী পাঁচ বছরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয় কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সেতুটি নির্মাণে প্রয়াত মন্ত্রী প্রমোদ মানকিন একাধিকবার প্রতিশ্র“তি দিলেও মৃত্যুর আগে তিনি তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তার ছেলে এমপি জুয়েল নিজেও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলেও স্থানীয়দের জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন...