| |

Ad

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহে রাস্তাঘাটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ : শহর জুড়ে তীব্র যানজট ও রাস্তা খুড়াখুড়ি

আপডেটঃ ২:৩৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৮, ২০১৮

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের রাস্তাঘাটের অবর্ণনীয় দূর্ভোগের চিত্র এখন প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার মধ্যজায়গা দিয়ে আন্ডার বাইপাস নির্মাণ প্রক্রিয়া পথচারীদের জীবনকে নাভিশ্বাস করে তুলছে যদিও এটা সাময়িক দুর্ভোগ বলে পৌরবাসী মেনে নিয়েছে কিন্তু পৌরবাসী লক্ষ্য করেছেন, বৃষ্টি বাদল নেমে এলেই কর্তৃপক্ষের রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণের তোড়জোর শুরু হয়ে যায় এবং আলাদীনের চেরাগের মতো কুড়িদিনের কাজ সাতদিনেই শেষ হয়ে যায়- এই রহস্য পৌরবাসীর অজানা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের অভ্যন্তরীন রাস্তা উপরাস্তা অলি গলি কোনটাই ঠিক নেই। কোনটার আস্তরন সরে গিয়ে ইটের খোয়া বের হয়ে আছে। কোন কোন রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত, কারণ রাস্তায় বিশাল জুড়ে পানি জমে আছে তো আছেই কোন কোন রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে কাজ শুরু হবে এই আশায়। অন্যদিকে রাস্তার এই মরণদশার ফলে শহরে যানজট তীব্রতর হয়েছে। আপনি যদি সানকীপাড়া শেষ মোড় থেকে গাঙ্গিনার পাড় আসার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে রেলক্রসিং এ এসে প্রথম ধাক্কাটা খাবেন কিন্তু মন চাইলেও আপনি গুলকীবাড়ী দিয়ে যেতে পারবেন না কারণ রাস্তাটি বন্ধ। সানকিপাড়া রেলক্রসিংয়ে আধা ঘন্টা রোদে পুড়ে আবার যখন রওয়ানা হলেন তখন জিলা স্কুলের সামনে এসেই দ্বিতীয় ধাক্কাটি খাবেন। কারণ জিলা স্কুল মোড়ে লম্বা যানজট।

সেখানে পয়তাল্লিশ মিনিট পর যাত্রা শুরু হলেও আপনি পন্ডিতপাড়া দিয়ে যেতে পারবেন না কারণ ফায়ার বিগ্রেড অফিস থেকে পৌরসভা মোড় পর্যন্ত আরেকটি দীর্ঘ যানজট। বাধ্য হয়েই আপনাকে সোজা রাস্তা ধরতে হবে কিন্তু জিলা স্কুল মোড় অতিক্রম করে নাহা রোডে এসে আপনি খাবেন তৃতীয় ধাক্কা কারণ নতুন বাজারে আরও একটি যানজট। সেখানে আধা ঘন্টা থেমে থাকার পর চতুর্থ ধাক্কাটি গাঙ্গিনার পাড় মোড়ে অপেক্ষা করছে। এ সময় জোহর নামাজের আযান শুরু হয়েছে। অর্থ্যাৎ ১১’টার সময়ও যদি আপনি যাত্রা শুরু করেন তাহলে গাঙ্গিনাপাড় আসতে আপনার একটা বেজে যাবে। অতএব স্ত্রী পুত্র কন্যা বাজার সদাই ইত্যাদি ছেড়ে দিয়ে আপনাকে সকাল সাড়ে ৭’টায় গন্তব্যে রওনা দিতে হবে। অন্যথায় আপনার তিন কর্ম ঘন্টা নষ্ট হবে রাস্তায়। কিন্তু আপনাকে আসতেই হবে কারণ আপনি ছাপোষা নাগরিক। পানির বিল দেন, বিদ্যুৎ বিল দেন, পৌর ট্যাক্স দেন, গ্যাস বিল দেন। এই জন্যে অনুগ্রহ করে আপনাকে এই ভয়ানক কষ্টটা সহ্য করতেই হবে।

বর্তমান সময়ে একদিকে তীব্র যানজট অন্যদিকে প্রধান সড়কের অভ্যন্তরে আন্ডার বাইপাস নির্মাণের ফলে সৃষ্ট দুর্ভোগে ময়মনসিংহবাসী এখন কাতর। শুরু হয়েছে দিনব্যাপী বৃষ্টি। এই অবস্থায় জনদুর্ভোগ একটা আপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষের যখন ইচ্ছা হয় তখনই শহরবাসীর কোন জবাবদীহিতা কে মূল্য না দিয়ে কাজ শুরু করে দেন কিন্তু এই কাজ যে কবে শেষ হবে তার কোন সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিতে পারে না ফলে বৃহৎ কাজগুলো দ্রুত করতে গিয়ে কোন কাজ হয় অসম্পূর্ণ না হয় মাঝপথেই থেমে যায় এবং দায়সারা ভাবে কাজের সমাপ্তি ঘটে যার ফলাফল ১৫ দিন না যেতেই শহরবাসী প্রত্যক্ষ করেন।

বর্তমানে যে জনদুর্ভোগ চলছে সেটা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ময়মনসিংহ পৌরবাসীর জন্য তা হবে পীড়াদায়ক। সুতরাং আরও দুর্ভোগ সৃষ্টি হবার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ ময়মনসিংহবাসীর কাছে এখন দুুইটি বিপদ। একটি তীব্র যানজট। অন্যটি রাস্তা খুড়াখুড়ি যা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির মাসকেই কেন জানি বেছে নেন।

আরোও পড়ুন...