| |

Ad

সর্বশেষঃ

গৌরীপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটঃ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৮, ২০১৮

শামীম খান, গৌরীপুর ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পত্রিকার ডিক্লেরেশান বাতিলের হুমকী প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে ইউএনও ফারহানা করিমের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য সোমবার (৬ আগস্ট) গৌরীপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক গৌরীপুর বার্তায় এ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে-২ দুর্নীতির বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম ওই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মশিউর রহমান কাউসারকে মুঠোফোনে পত্রিকার ডিক্লেরেশান বাতিলের হুমকী দেন এবং পত্রিকার প্রকাশক ম. নুরুল ইসলামকে পত্রিকার ডিক্লেরেশানের কাগজপত্র দেখাতে বলেন। ইউএনও’র এরকম আচরনের ঘটনাটি শুনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে গৌরীপুর প্রেসক্লাবে সংগঠনের সভাপতি ম. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাতের সঞ্চালনায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকগণ ইউএনও’র অসৌজন্যমূলক আচরনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন। সভা শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসককে মুঠো ফোনে এ ঘটনাটি অবগত করেন ম. নুরুল ইসলাম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ফারহানা করিম পত্রিকার ডিক্লেরেশান বাতিলের হুমকীর অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান জনৈক এক ব্যক্তি তাঁর (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করে উল্লেখিত পত্রিকার ডিক্লেরেশান নেই। এজন্য পত্রিকার প্রকাশককে অফিসে এসে পত্রিকার কাগজপত্র দেখাতে বলেছিলাম। তিনি বলেন যদি পত্রিকায় কোন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়, তাহলে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে আমি পত্রিকার ডিক্লেরেশান বাতিলের জন্য সুপারিশ করতেই পারি।

উল্লেখ্য ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার জমিতে ঘর নির্মাণ’ প্রকল্পে-২ এ উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ২৯৮টি ঘরের বরাদ্দ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে ইউনএনও ফারহানা করিমের বিরুদ্ধে। এসব ঘর নির্মাণে নীতিমালা ও শিডিউল মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সরজমিনে দেখা গেছে শিডিউল ও নীতিমালায় উল্লেখ করা কাঠের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে ৫শ টাকা সেফটি দরের নি¤œমানের কাঠ। প্রতিটি পিলারের দৈর্ঘ্য পরিমাপে ১ ফুট কম, রড ৪টির স্থলে ৩টি ও ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্মমানের খোয়া (ডাস্টসহ)। আশ্রয়ণ প্রকল্প নীতিমালায় পিআইসির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কাজটি করার কথা। কিন্তু পিআইসির মাধ্যমে কাজ না করিয়ে ইউএনও নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে ঘরের নির্মাণ সামগ্রী তৈরীর কাজ করাচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীন গৌরীপুর উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯৮টি ঘর নিমার্ণের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ২৯৮টি ঘর নিমার্ণ করা হবে। এরজন্য পাঁচ সদস্যের একটি পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, পিআইও (সদস্যসচিব), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ। শিডিউলে ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের একটি টিনের ঘরে ১২টি, বারান্দায় পাঁচটি ও ল্যাট্রিনে চারটি পিলার দেয়ার নিয়ম রয়েছে। ঘরের জন্য চার বর্গফুটের পিলারের উচ্চতা ১২ ফুট, বারান্দা ও ল্যাট্রিনের পিলারের উচ্চতা ১০ ফুট। পিলারে থাকবে ছয় এমএম গ্রেড রড (চারটি)। কিন্তু পিলার নির্মাণে রড ব্যবহার করা হচ্ছে তিনটি। পিলালের রড বাঁধাইয়ে রিং (চুড়ি) হিসেবে রডের বদলে ১৫ ইঞ্চি দুরত্বে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮ নম্বর জিআই তার। ঢালায়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন দৈনিক মজুরী ভিত্তিক রাজমিস্ত্রী শ্রমিক। পিলার ঢালাই শেষে মাটিতে ফেলে ওপরে পুরনো চটের মাধ্যমে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কিউরিং দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছেনা। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হওয়ায় বর্তমানে তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে দিনরাতে পিলার তৈরি করে ৪/৫ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন...