| |

Ad

সর্বশেষঃ

দ্বিতীয় দিনেও কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড়

আপডেটঃ ১:২৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৯, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বিতীয় দিনের মতো কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। আজও স্টেশনে রয়েছে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ দেওয়া হচ্ছে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট।

এই দিনের টিকিট পেতে কমলাপুরে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই ছিল মানুষের ভিড়। ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। এই লাইনে কেউ দাঁড়িয়েছেন গতকাল সন্ধ্যায়, রাতে, কেউবা আজ ভোরে এসে যুক্ত হয়েছেন। টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সময় এই লাইন আরো দীর্ঘ হয়ে একে বেঁকে বাইরের রাস্তায় চলে গেছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় এসে লাইনে দাঁড়ানো আবুল কালাম আজাদ তার কাঙ্ক্ষিত টিকিট যখন হাতে পেয়েছেন তখন সকাল ৯টা পেরিয়ে গেছে। ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর মিলল তার প্রত্যাশিত টিকিট। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়া যাবে না এমন শঙ্কা থেকেই আবুল কালাম আজাদের মতো অনেক মানুষ কমলাপুর স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে সারা রাত দাঁড়িয়ে সময় কাটিয়েছেন।

আবুল কালাম বলেন, চট্রগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ১৮ আগস্টের টিকিটের জন্য গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন এসে দেখি আমার মতো অনেকেই এসেছেন টিকিট সংগ্রহে। আমি স্ত্রী-সন্তানসহ ঈদ করতে বাড়িতে যাব। এসি টিকিট ছাড়া যেতে কষ্ট হবে তাই টিকিট পাওয়া নিশ্চিত হতে এতো দীর্ঘ সময় বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পেয়েছি। যখন সন্ধ্যায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি তখনও আমার সামনে আরো ২৩ জন আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এভাবে ২৬টি কাউন্টারের সামনেই সিরিয়াল শুরু হয়েছে তখন থেকেই।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন আহসান হাবিব শাওন, তিনিও লাইনে দাঁড়িয়েছেন গত রাত ৯টার দিকে। এখনও দাঁড়িয়ে আছেন লাইনে। তার সামনে তখনও ১৭ জন টিকিট প্রত্যাশী মানুষ। তিনি বলেন, এসি টিকিটের জন্য এতো কষ্ট করে দীর্ঘ লাইনে গত রাত থেকে দাঁড়িয়ে আছি। যদিও শোনা যাচ্ছে ইতিমধ্যে এসি টিকিট শেষ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কাউন্টার থেকে যারা টিকিট দিচ্ছেন তাদের খুব ধীর গতি। দীর্ঘ সময়ে লাইনে অপেক্ষার পর তাদের এমন ধীর গতিতে মানুষ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে।

ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, সকাল ৮টা থেকে ২৬টি কাউন্টারে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মানুষ সুশৃংখলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন, তবে সকাল থেকেই টিকিট প্রত্যাশী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। যদিও আমাদের সম্পদ সীমিত, এরমধ্যেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছে।

১০ আগস্ট বিক্রি হবে ১৯ আগস্টের টিকিট। এভাবে আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট পর্যায়ক্রমে টিকিট মিলবে ২০ এবং ২১ আগস্টের টিকিট। এই দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি হবে।

বরাবরের মতো এবারও মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ২৫ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫ শতাংশ। একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট দেওয়া হবে এবং বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না।

আরোও পড়ুন...