| |

সর্বশেষঃ

আউশে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বিনাধান-১৯

আপডেটঃ ৩:২১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৯, ২০১৮

শেরপুর প্রতিনিধি : আউশ মৌসুমে আশার আলো ছড়াচ্ছে বিনাধান-১৯। মাত্র একশ দিনে কৃষকরা ফসল কেটে ঘরে তুলেছেন। প্রতি একরে গড়ে ফলন মিলছে ৪০ থেকে ৫৫ মণ। খরাসহিষ্ণু হওয়ায় এ ধানে পানি সেচ লাগে না বললেই চলে। বৃষ্টির পানিতেই আবাদ করতে পেরে কৃষকরাও দারুণ খুশি।

এ ধানের চাল খুবই চিকন এবং লম্বা। এছাড়া এ ধানের ভাত খেতে সুস্বাদু হওয়ায় কৃষকরা আউশ আবাদে বিনাধান-১৯ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী, নকলা ও সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) তত্ত্বাবধানে চলতি মৌসুমে বিনাধান-১৯ আবাদ করে একর প্রতি ৪০-৫৫ মণ ফলন মিলেছে। চলতি আউশ আবাদে অন্যান্য ধান যখন পাকতে আরও দেড় থেকে দু’সপ্তাহ দেরি, সেখানে বিনাধান-১৯ এখনই কাটা শুরু হয়েছে।

পরিবর্তনশীল আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন ফসল ও ফলের জাত উদ্ভাবন শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) নতুন জাতের বিনাধান-১৯ আবিষ্কার করে। আউশ মৌসুমে আগে যেসব জাতের ধান আবাদ হতো তাতে একর প্রতি ২০-২২ মণের বেশি ফলন মিলতো না। কিন্তু বিনাধান-১৯ গড় ফলন ওইসব জাতের চাইতে প্রায় দ্বিগুন। এ জাতের ধানের বীজও সংরক্ষণ করা যায়।

শেরপুর সদরের ঘোনাপাড়া গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলাম জানান, বিনাধান-১৯ কেটে শুকনা অবস্থায় একর প্রতি ৪০ মণ করে ধান পাওয়া যায়। মাত্র ৯৭ দিনে বৃষ্টির পানিতেই এমন ফলন পেয়েছেন তিনি।

জাত উদ্ভাবনকারী বিনা’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় নেরিকা-১০ মিউট্যান্ট জাতের সঙ্গে কার্বন আয়ন রশ্মি পরমাণু শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিনাধান-১৯ জাত আবিষ্কার করা হয়েছে।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, এ বছর জেলায় গত বছরের তুলনায় ৮০০ হেক্টর জমি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। সরকারের কৃষি প্রণোদনা এবং বিনা ও ব্রি’র উচ্চ ফলনশীল জাত আবিষ্কারের ফলে আউশের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

আমরা আশা করছি, এবারের চাইতে আগামীবার দ্বিগুন জমিতে আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। বিনাধান-১৯ কেটে কৃষকরা ওই জমিতেই আমন রোপণ করতে পারছেন। তারপর বোরো। বোরো কেটে সরিষা কিংবা ডাল আবাদ করার ফলে এক জমিতে বছরে চার ফসল আবাদ সম্ভব। যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিনা নালিতাবাড়ী উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, চলতি আউশ মৌসুমে শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের বিনা’র পক্ষ থেকে প্রদর্শনী প্লট দেয়া হয়েছে। এক বিঘা করে জমিতে বিনাধান-১৯ আবাদের জন্য ৭৫ জন কৃষককে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বীজ-সার উপকরণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। ফলে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে এবার বিনাধান-১৯ আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্পস্রারণ অধিদফতরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ব্রি ধান-৪৮ এবং বিনা’র বিনাধান-১৯ আউশের স্বল্পমেয়াদী উচ্চ ফলনশীল জাত আবিষ্কার করায় কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। গত ৫ বছর ধরে সরকার কৃষি প্রণোদনা দেয়ায় এবার ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। বিনাধান-১৯ জাতটি আউশের একটি সম্ভাবনাময় জাত হিসেবে ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting