| |

সর্বশেষঃ

খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

আপডেটঃ ৬:৫২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৮, ২০১৮

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে নিহতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৭-এ।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ৩জন।

নিহতদের মধ্যে ৫ জন ইউনাডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ, প্রসিৎ বিকাশ গ্রুপ) কর্মী। অন্যজন পথচারী স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী এবং আরেকজন গ্রামবাসী।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে উপজেলার স্বনির্ভর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা (২৩), সহ-সম্পাদক এলটন চাকমা (২৮), গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা (২৯), বরুন চাকমা (২৬), রুপন চাকমা (২৭), মহালছড়ি উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জিতায়ন চাকমা (৫২) ও শন কুমার চাকমা(৭০)।

আহত সাতজনের মধ্যে সমর বিকাশ চাকমা (৪৮), সুকিরন চাকমা (৩৫) ও সোহেল চাকমার (২২) নাম জানা গেছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা ও জেলা সমন্বয়কারী মাইকেল চাকমা এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (এমএন লারমা) দায়ী করেছেন।

তবে জনসংহতি সমিতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের নেতা সুধাংকর চাকমা দাবি করেন, ‘ইউপিডিএফের (প্রসিৎ গ্রুপ) অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রামবাসীদের নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসিৎ বিকাশ গ্রুপ) সকালে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এজন্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পাশের রাস্তায় জড়ো হচ্ছিলেন। কর্মসূচি শুরুর আগেই দুর্বৃত্তরা এসে ব্রাশফায়ার করে।

এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গুলিবিনিময় হয়। ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। আতংকে মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশগুলো উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদাৎ হোসেন টিটো জানান, আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের অদূরে স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশ এলাকায় আকস্মিকভাবে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ৬জন নিহত ও আরো ৭জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ইউপিডিএফ সমর্থক নেতা ও কর্মী বলে জানা গেছে।

ওসি জানান, পরে আহত শন কুমার চাকমা মারা যায়। তবে সকলের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। এসময় স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত পুলিশ বক্সেও গুলি লাগে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, সকালে গুলিবিদ্ধ ৯জন কে হাসপাতালে আনা হলে তাদের মধ্যে ৬ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। আহত ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিবিদ্ধ ৩জনকে চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৪ মে রাঙ্গামাটির নানিয়াচরে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের যাওয়ার পথে বেতছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting