| |

Ad

সর্বশেষঃ

চামড়া নিয়ে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

আপডেটঃ ২:১৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৯, ২০১৮

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী ৬০০ টাকার বেশি দামে চামড়া কিনেছেন, তারা পাইকারের কাছে বেশি দামে তা বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ন্যায্য মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে না পাড়ায় ধস নেমেছে তাদের ব্যবসায় বলে দাবি করছেন তারা।

এদিকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত চামড়া কিনতে আগ্রহী নয়। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাকিতে চামড়া বিক্রি করছেন এবং চামড়া বিক্রির পরিমাণ কম হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের যৌথ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ট্যানারি মালিক ও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। গত বছরের অনেক চামড়া অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে গেছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে তাদের চামড়া কেনার সক্ষমতা কম।

এ বিষয়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আরো ভুট্টো জানান, আজিমপুর এলাকা থেকে প্রায় দুই হাজার পিস চামড়া কিনেছি। এরপর তা বিক্রি করতে লালবাগের পোস্ত এলাকার পাইকারদের কাছে যাই। কিন্তু পাইকাররা গড়ে ৭০০ টাকার বেশি দাম হাকছেন না। আমার মত শত শত মৌসুমি ব্যবসায়ীর চামড়া কিনে একই অবস্থা হয়েছে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এখন নিজ উদ্যোগে চামড়া লবন দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ী পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, সময়মতো চামড়া বিক্রি করতে না পারলে তাতে পচন ধরবে। এবার চামড়া বিক্রির পর লোকসানের পরিমাণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে চামড়া সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটটি নামমাত্র মূল্যে চামড়া কেনার উদ্দেশ্যেই বাজার অস্থির করে তুলেছে।

অন্যদিকে পোস্তার পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছর যে চামড়া বিক্রি করেছি তার মূল্য এখনও পাইনি। সেখানে অনেক ব্যবসায়ীর টাকা আটকে আছে। নগদ টাকায় চামড়া কেনার মূলধন কোথায়? আর কারণে অকারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আমাদের ওপর দোষ চাপায়। কিন্তু কেউ পৃষ্ঠপোষকতা করেন না।

অন্যদিকে কম দামের কারণে কাঁচা চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে। এজন্য আগামী এক মাস বিজিবি সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। চামড়ার কোনো ট্রাক যাতে সীমান্ত পার হয়ে না যেতে পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপ ও নজরদারি জোরদার করতে হবে।

অন্যদিকে চামড়ার বাজারের অবস্থা খারাপ হওয়ার পেছনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দায়ও রয়েছে। বিসিকের কারণেই চামড়া শিল্পনগরী এক যুগ ধরে প্রক্রিয়াধীন। ট্যানারি মালিকদের বিসিক সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এবারের কোরবানিতে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এবার ৫০ থেকে ৫৫ লাখ গরুর চামড়া এবং ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ছাগলের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হবে।

আরোও পড়ুন...