| |

সর্বশেষঃ

বাসে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় সুপারভাইজার গ্রেফতার

আপডেটঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৮

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে বাসে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার পলাতক এরশাদকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে কালিহাতী উপজেলার বেনুকুর্শা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন দুপুরে সুপারভাইজারের টাঙ্গাইলের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান আগামীকাল রিমান্ড আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী ওই নারীকে আদালতের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে তার ভাইয়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন।

এর আগে প্রতিবন্ধী নারীর ভাইয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহিন সিদ্দিকী আদালতে বোনকে ভাইয়ের জিম্মায় দেয়ার জন্য আবেদন করেন।

ওই নারীর ভাই ও বড় ভগ্নিপতি জানান, কোরবানির ঈদের ২০ দিন আগে ওই প্রতিবন্ধী নারী কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঈদের পরদিন কাউকে কিছু না বলে বোনের বাসা থেকে চলে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তার বোন বাদী হয়ে ঢাকার সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল থেকে পুলিশের বার্তা পেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে খবর দেয়। খবর পেয়ে শনিবার রাতেই তারা বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানায় চলে আসেন। সেখানে ছবি দেখে ওই নারীকে সনাক্ত করেন। পরে রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ওই নারীর সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবন্ধী ওই নারীকে পরিবারের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান আবেদনের উপর শুনানীর পর এ আদেশ দেন। এছাড়া আগে গ্রেফতারকৃত বাসের হেলপার নামুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে বাসের সুপারভাইজার এরশাদের নাম বেড়িয়ে আসে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত আগামিকাল মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, ৩০ আগস্ট রাত ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপাড়ে টহলরত পুলিশের দল ওই এলাকার নৈশপ্রহরীর মাধ্যমে জানতে পারে বাসের ভেতর এক নারীর কান্না শোনা যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে ওই টহল দল বাসটিতে গিয়ে প্রতিবন্ধী এক নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ওই বাসের চালকের সহকারী নাজমুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন এসআই নুরে আলম বাদি হয়ে বাসের চালক আলম খন্দকার ও আটক নাজমুলকে আসামি করে নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের চালক আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে ওই নারীকে ধর্ষণ এবং সহকারী নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting