| |

সর্বশেষঃ

‘ভুটান-জুজু’ জয় করে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা

আপডেটঃ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক : উন্মত্ত উল্লাস হতে পারতো ম্যাচ শেষে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০১৫ সাফের পর জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। যে দলের বিপক্ষে তিন বছর আগে জয়, সেই ভুটানকেই সাফ ফুটবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৬ সালে এশিয়ান কাপের প্লে অফে এই দলটার বিপক্ষে হেরেই যে এক রকম নির্বাসনে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল। ভুটান তাই এক অভিশপ্ত নাম হয়েছিল এদেশের ফুটবলে। তবে দ্বাদশ সাফে সেই ‘ভুটান-জুজু’ জয় করেই উড়ন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ‘এ’ গ্রুপে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের দেশ।

স্বাগতিক দর্শকদের ম্যাচের ৩ মিনিটেই উল্লাসে মাতার সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ দল। তপু বর্মণ পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। সেই লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় জেমি ডে’র দল। বিরতি থেকে ফিরেই মাহবুবুর রহমান সুফিল লিড বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলর জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু মধুর এই জয়ের পরও তেমন উল্লাসে মাতল না জেমি’র দল। আসলে তো উন্মত্ত উল্লাসটা হতে পারতো এদিনই। ফুটবলাররা নিজেদের আলিঙ্গনে বাঁধলেন শুধু। একটা ফাঁড়া কাটানোয় যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল ফুটবলাররাও।

ভুটান বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের কক্ষপথে ফেরার আভাস মিলেছিল আসলে এশিয়ান গেমসেই। যেখানে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার দ্বিতীয় পর্বে খেলার কীর্তি গড়ে। কাতারের মতো দেশকে হারানো ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করার কৃতিত্ব দেখায়। উজবেকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দেখায় হার না মানা মানসিকতা। সেই পারফরম্যান্সই সাফে বাংলাদেশেকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ নামে পরিচিত আসরে শেষ তিনবার গ্রুপের বাধাই পেরুতে পরেনি দল।

তবে এবার নিজেদের ঘরে টুর্নামেন্ট। ২০০৯ সালে ঘরের মাঠে সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ২০০৩ সালে আছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌবর। সেই গৌবরটাই ফেরানোর রঙিন স্বপ্ন বুনছিল ফুটবল ভক্তরা। বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে অবশ্য গ্রুপ পর্ব পেরুনোকে প্রথম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে ভালোভাবেই পা দিল তার দল। ক’দিন আগে প্রীতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার যে অঘটন ছিল সেটিও প্রমাণ করল জেমি ডের শিষ্যরা।

এশিয়াডে খেলা একাদশকে প্রাধান্য দিয়েই এদিন একাদশ গড়েন বাংলাদেশ কোচ। তবে গোলরক্ষক হিসেবে আশরাফুল ইসলাম রানার জায়গায় খেলান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলা শহিদুল আলম সোহেলকে। অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী দেন জামাল ভূইয়াকে। এছাড়া সিনিয়রদের মধ্যে প্রথম একাদশে রাখেন ওয়ালী ফয়সালকে। মামুনুলের জায়গা হয়নি প্রথম একাদশে। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।

তারুণ্য নির্ভর দলটা মাঠে প্রমাণ করেছে ভুটানের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটাও। র‌্যাঙ্কিংয়ে ভুটান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ভুটানের অবস্থান ১৮৩, বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৪। তবে র‌্যাঙ্কিং-পরিসংখ্যান যে কখনো কখনো ভুল তথ্য দেয় এদিন জেমি ডের দল প্রমাণ করেছে তা। দারুণ ছন্দে গোছানো ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ডিফেন্ড আগলে রেখে আক্রমণ ভাগে গোলের দারুণ সব সুযোগ তৈরি করে।

ভুটান তাই ঠিকঠাক চ্যালেঞ্জটাও জানাতে পারেনি। গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল কাটান অলস সময়। চেনচো গাইয়েলতসেনকে নিয়ে ভয় ছিল, তিনিও সেভাবে ভয় ধরাতে পারলেন না। ম্যাচ শেষে তাই স্বপ্নটাকে আরও বড় করেই বাড়ি ফিরল দর্শকরা।

এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচের ‘এ’ গ্রুপের অন্য দুই দল পাকিস্তান ও নেপাল মুখোমুখি হয়। যেখানে পাকিস্তান জয় পায় ২-১ গোলে। এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। একই দিন বিকেল ৪টায় ভুটান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। বুধবার ‘বি’ গ্রুপের দল ভারত ও শ্রীলঙ্কা একে অপরের মোকাবেলা করবে।

বাংলাদেশ দল:

শহিদুল আলম সোহেল, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, তপু বর্মন, ওয়ালি ফয়সাল, বিপলু আহমেদ, আতিকুর রহমান ফাহাদ, জামাল ভূইয়া, সাদ উদ্দিন (ফয়সাল মাহমুদ/মামুনুল), মাসুক মিয়া জনি (ইমন মাহমুদ), মাহবুবুর রহমান সুফিল।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting