| |

Ad

সর্বশেষঃ

এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের শৃঙ্খলা ভাঙছে : ওবায়দুল কাদের

আপডেটঃ ২:৫৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা অসুস্থতার দিকে যাচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে তাহলে কর্মীরা কি শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তাতো নয়, অন্যরাইও চাইতে পারেন।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলনামা, এসিআর আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই-বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

বৈঠকের কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীর নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনো কারণ আছে। প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা, অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে।

কাদের বলেন, চা দোকানো বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে, যেটা হওয়ার কথা ছিলো বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণার চেয়েও কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।

নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না। আর নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।

কাদের বলেন, বরগুনাতে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। তা আমরা মোটেও অ্যালাউ করবো না। কারো অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দিবে। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন, যদি আলোচনা যথেষ্ঠ না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দিবো। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নিবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো। যারা করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে, আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।

এসময় এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে দলীয় মনোনয়ন ফরমের দাম বাড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন সাধারণ সম্পাদক।

আ’লীগকে বাদ দিয়ে ঐক্য হাস্যকর

জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানালে যাবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্যে বিশ্বাসী। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দিবো। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই।

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের বিষয়। নির্বাচন মানেই হলো প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেটা হবেই। আমরা তাকে ওয়েলকাম করি। আমরা কি একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে যাচ্ছি এমনতো নয়। ঐক্যও হতে পারে। নির্বাচন আসলে জোট হবেই। আওয়ামী লীগও জোট করে, অন্যন্যা দলও জোট করে। বিএনপিরও জোট আছে। আমাদের ১৪ দলীয় জোট আছে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের জোট হয়েছে, সরকারে আমরা এক সঙ্গে আছি। সেই মহাজোটের সরকারইতো বর্তমানে বাস্তবে দেশ চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এ বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দল আছে। এ দলগুলোকে বাদ দিয়ে যেটা হবে তা হলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় নাকি? জাতীয় ঐক্য এ শব্দদয় ব্যবহার না করাই ভালো।

তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি একমাত্র বিএনপির পক্ষে শোভা পায়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে অনিয়ম, জালিয়াতি নাই। নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় গেছে বিএনপি।

‘নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না’

আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কি হবে? আকারে কতটা ছোট হবে, ক্যাবিনেটে কতজন থাকবে তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।

কাদের বলেন, ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ, এটা নিশ্চিত হলেও তা বলার দায়িত্ব আমাদের না, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলেরও কোনো নেতার না। তাই আমাদের যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

আরোও পড়ুন...