| |

Ad

সর্বশেষঃ

উজানের ঢলে বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্যার শঙ্কা

আপডেটঃ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮

বিশেষ সংবাদদাতা : হু-হু করে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। রাজশাহীর দুকূল ছাপিয়ে যেন জলরাশি। প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষের। মূলত উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় চার সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। প্রতিদিন এই পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মার বুকের জেগে উঠা চরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে রয়েছে নদী ভাঙন। প্রতিদিন একটু একটু করে পাড় ভাঙছে। এগিয়ে যাচ্ছে বসতি এলাকার দিকে।

এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পদ্মাপাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে। ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কাও একেবারই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

গত দেড় মাস ধরে পদ্মার নদীর পানি বাড়ছে। তবে মধ্যসময় তা থমকে দাঁড়ায়। কিন্ত গত দুসপ্তাহ থেকে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা অব্যাহত আছে। পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভাঙন থেকে রাজশাহী শহরকে রক্ষা করতে মহানগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পাউবোর টি-গ্রোয়েনের পাশে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে নদীর স্রোতের তোড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্রমশই দুকূলে নদীর পাড় ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। ক্ষতি হয়েছে আম, খেঁজুর ও পিয়ারা বাগান।

এছাড়াও হুমকিতে রয়েছে নদী পাড়ের বসতি। রাজশাহী মহানগরীর পাশাপাশি জেলার বাঘার আলাইপুর থেকে লক্ষ্মীনগর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মহানগরীর টিবাঁধ এলাকায় কথা হয় কয়েকজন নৌকার মাঝির সঙ্গে।

মাঝি রবিউল ইসলাম বলেন, পদ্মায় মাঝের চরগুলো ডুবে গেছে। চরে রাখা গরু-মহিষগুলো কিছু কিছু করে নিরাপদে নিয়ে আসছেন মালিকরা। পানি বাড়ায় নৌকায় ভ্রমণ করছেন অনেকেই। এর ফলে ভালো ব্যবসা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপকারী এনামুল হক জানান, পদ্মা নদীতে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। গত সোমবার পদ্মা পানি ছিল ১৬ দশমিক ৭৫, মঙ্গলবার ছিল ১৬ দশমিক ৮৩, বুধবার ছিল ১৬ দশমিক ৯০ ও বৃহস্পতিবার পদ্মায় পানি ছিলো ১৯ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার।

রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। আর আগস্ট মাসে সাধারণত নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবার যেভাবে দ্রুত পানি বাড়ছে তাতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলায় তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে কোন কোন এলাকা রয়েছে তা খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

সেসব এলাকায় যদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়, তবে প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেসব এলাকায় বাঁধ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

আরোও পড়ুন...