| |

সর্বশেষঃ

অতিরিক্ত ফি ফেরত না দেওয়া ১২০৯ স্কুলকে শোকজ : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটঃ ৫:২০ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

ঢাকা প্রতিবেদক : গত বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত না দেওয়া বা এ বিষয়ে কোনো সাড়া না দেওয়ায় এক হাজার ২০৯টি স্কুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ৩০ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।

২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ড নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সারাদেশে তিন হাজার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফরম পূরণে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ৮৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেরত দিয়েছে। ৯৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা বোর্ড নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় করেনি। তাদের দাবির যথার্থতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ভর্তি, সেশন, টিউশন ফি ও এসএসসির ফরম পূরণে নেওয়া বাড়তি ফি সাত কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সে সময় শেষ হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক হাজার ২০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো জবাব না দেওয়ায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন তাদের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য বোর্ডগুলো নোটিশ জারি করেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ দিন সময় পাবে। এ সময় পার হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য শিক্ষাবোর্ডগুলো বিজ্ঞান বিভাগের জন্য এক হাজার ৪৫০ টাকা (কেন্দ্র ফি ৩০০), মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য এক হাজার ৩৩০ টাকা (কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা) নির্ধারণ করে। কিন্তু কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বোর্ড নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।’

ফি ফেরত দেওয়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাম তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল অতিরিক্ত ফি ফেরত দিয়েছে।’

বর্ধিত ফি গ্রহণের বিষয়টি জানার পর হাইকোর্ট অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি অকার্যকর ঘোষণা করে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

অননুমোদিতভাবে বর্ধিত হারে ভর্তি, সেশন ও টিউশন ফি নেওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা ভেঙে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ফি’র পরিমাণ ও অন্যান্য বিষয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরকে জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা আজই (রবিবার) আমাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি উপায়েও আমরা তদন্ত করেছি। আমরা দু’টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ক’টি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নিয়েছে, ক’টি ফেরত দিয়েছে, কোনটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে তা জানতে পারব।’

অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাইরেও তাদের শিক্ষক রয়েছে। তাদের বেতন বাড়ানো দরকার। এসব বিষয়ে তাদের প্রস্তাব পাঠাতে বলেছি। যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, অবশ্যই আমরা সে বিষয়ে বিবেচনা করব। সেটা একটি সেপারেট বিষয়। নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আপনারা একটা কাজ করে ফেললেন- এটা হবে না।’

‘যারা অনিয়ম করে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন কেউ রেহাই পাবেন না, আইনি প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি’- বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting